Posts

Showing posts from 2023

'হো বাধাই' ............

'হো বাধাই' .........                            আ, ফ, ম,  ইকবাল॥     বেরিয়ে এসেছে সকল মজদুর   করো অভিনন্দন ভরপুর,   তৈরি তোরণ তৈরি বরণমালা    তারিফ তারিফে কান ঝালাপালা;    ছিল কার ত্রুটি হলোনা তা জানা    কেউ তা আর জানতে চাইবেও না,  তবু  বাজিছে তালি আর তালি  মিডিয়ায় দেখ বাহবা বাহবা খালি;   শ্রমিক ভাইদের কুশল উদ্ধারে  টিআরপি তাদের গেছে কেমন বেড়ে !  অভিনন্দন তাই শ্রমিক ভাই   চিৎকার করে বলো- 'হো বাধাই' !   করেছে মানুষ ভুল, দোষ পাহাড়ের  'আস্তা'র উপর চড়েছে বোঝা পাপের;  তবুতো সেল্ফি লওয়ার হয়েছে সুযোগ  অভিনন্দন ওহে মানবিক দুর্যোগ !     ওই শ্রমিকের নিত্যদিনের লড়াই   শেষ বুঝি হয়ে যাবে ভাই ?    কিসের তবে এত অভিনন্দন   কিসের তারিফ, কিসের 'বাধাই' !                    ৩০-১১-২০২৩। 

আত্মকথন.....

আত্মকথন........ ক্ষুদ্র সবুজ তৃণখণ্ড মোরা  পদতলে পৃষ্ঠ করে দিতে পার,  কিন্তু মিটিয়ে দিতে পারবে না।   সুদূর সেই অতীতেও  কত ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি   চুপ রয়েছি তখনও   ঝড়কে কখনও ভয় পাইনি !  আমাদের নীরব স্পর্ধায়  থেমে গেছে কত শক্তিধর তুফান !  ধৈর্য রয়েছে আমাদের চিরসঙ্গী সহনশীলতা আমাদের বিচারধারা  সকল অত্যাচারের মোকাবেলা  অবশ্যই করব-   নিজেদের আত্মিক শক্তির   অপচয় ঘটতে দেই না কভু !                     -আ, ফ, ম, ইকবাল॥                       ১৫-১০-২০২৩।

আমার নিবেদন......

আমার নিবেদন.......                   আ, ফ, ম,  ইকবাল॥             উন্মত্ত হবার আগে   জগতের সকল রাজনেতা,   ধ্বস্ত দালানের অবশেষে   ভরে যাবার আগে সকল জনপদ,   লাশে লাশে বন্ধ হয়ে উঠার আগে সকল রাজপথ,   বারুদের ধোঁয়ায় বন্ধ হবার আগে সকল বিদ্যানিকেতন-   জগতের সকল শিশুদের বলি-  একহাতে তুলে নাও পুস্তক   খেলনা ছেড়ে অপরহাতে বন্দুক !   বেকার হয়ে পড়েছে   সকল ভাষার মোলায়েম শব্দাবলি  আস্তাকুড়ে সঞ্চিত হচ্ছে প্রগতির সকল মুখোশ !   ফিলিস্তিন আর ইসরাইলের    সকল শিশুদের সবিনয়ে বলি-   আমি তোমাদের তরে    লিখে রেখে যেতে চাই    একটি প্রেমের কবিতা সংকলন;   আমি যে কেবল  এক অতি সাধারণ কবি    এছাড়া কিছুই যে করার নেই আমার !               ১৫-১০-২০২৩। 

দাবানলের এ কি রূপ ......

দাবানলের এ কি রূপ..... পাশের কামরায় জ্বলছে আগুন পারবে তুমি শুয়ে থাকতে অন্য ঘরে ?  শবগুলো গলছে ধীরে ধীরে তোমারই এক বদ্ধ কামরায় পারবে তুমি করতে জপতপ অন্য ঘরে ? হ্যাঁ, যদি পারো- বলার নেই ভাই তোমাকে আমার কিছু আর ! দেশটাতো নয় মোদের কাগজের তৈরি নক্সা কেবল যাক না ফেটে এক টুকড়ো তার অবশেষটুকু রইবে নক্সাই হয়ে ! বইছে দেশের নদনদী দাঁড়িয়ে আছে পর্বত শহর গ্রাম তা দেখে যদি তুমি গাইতে পার গুণগুণ গান পড়ে আছো আপন নির্বিঘ্ন কূলায়- জিজ্ঞেস করে দেখ আপনারে তারপরও তোমার আছে অধিকার মনুষ্যত্ব দাবি করার ? জগতের বুকে মানুষের প্রাণের চেয়ে নেই দামি কোনকিছু আর না ঈশ্বর না ভগবান আল্লাহ না কোনো নির্বাচন ক্ষেত্র ! কাগজের লেখনী হোক সে প্রার্থনা অথবা শ্লোক কি সংবিধান; কাগজের টুকরো হোক অথবা গ্রন্থ অমর  ছিঁড়ে ফেড়ে পুঁতে দেয়া যায় মাটির গহন তলায়। কিন্তু মানুষের যে বিবেক মানুষকে করেছে মানুষ তাও যদি হারিয়ে যায় লাশের আড়ালে জ্বলেপুড়ে হয়ে যায় ছাই তার যে আর বিকল্প কিছু নাই ! শাসন যখন অন্ধ হয় শাসক মুকবধির বন্দুকের নল দিয়ে চলে হন্তারকের কর্মধারা; দেখেও ...

HUNGER AND A POEM .....

HUNGER AND A POEM .....  The child asked his grandfather- What poems are ?  Are more valuable than the meal ?  Twisting the head  Grandfather said-   Yes baby, it's precious   Because poetry comes from the mind   And meal from the soil  Through hard work and sweat.  The sweat and hard work  Have no value here  In our society !  But my son-   Don't be a poet  Never;   Because poetry dine the appetite   Can't never erase the hunger  Hunger doesn't suit a poet  Who plays just with words !  Some people grow words  And some foodgrains   Know first my boy   Who is practical-  Paddy or words ?                   @ Ekbal,              30-07-2023.

প্রতীক্ষায় .......

প্রতীক্ষায়...........  বর্ণবিভ্রাটের অভিশাপে  বিবর্ণ চেহারা  তবু ছিল পবিত্র পরিচ্ছন্ন;     মুতের স্রোতে তারে  করে দিল বিবর্ণ বিব্রত !   মাথা থেকে মুখমণ্ডল   ধেয়ে আসা সেই তপ্তধারা   ক্ষত হয়ে রইবে চিরকাল! তুমি, হে বড়লোকের সন্তান  দিয়েছ তোমার পরিচয়  তোমার আচরণ  তোমার উলঙ্গপনা দিয়ে তোমার পেছনে  রয়েছে ক্ষমতার দীর্ঘহস্ত  সেই দলিতের  আছে শুধু একটি প্রশ্ন-   তোমার মত পাষণ্ড  জন্ম নিয়েছ কি শুধু  জ্বালাতে বিদ্বেষের হুতাশন ? দেশের হে কলঙ্কিত সন্তান-  তোমার এই দাম্ভিক আচরণ  তোমার পাষণ্ড দানবিক কর্মে    জানো কি-  যুগ যুগান্ত ধরে  পোড়াতে রইবে   গ্লানির অভিশাপ   তিলে তিলে  নিপীড়িত দলিতের চেতনা ! সামাজিক আর্থিক  রাজনৈতিক ন্যায়  ঢাকঢোল পেটানোয় ব্যস্ত আজ  নীতি সামলাচ্ছে বোলডাজার    আর সংবিধান   যদি স্বৈরাচারির হাতে  মনে রেখো-  জনতা জাগবে শীর্ষই  নারায়ন সেবা নিতে নয়  জন...

.......বদলাচ্ছে, কিন্তু কোন পথে ?

.......বদলাচ্ছে, কিন্তু কোন পথে ?                 -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥ বদলে যাচ্ছে আমার পরিবেশ  কেমন বদলাচ্ছে আমার প্রতিবেশ;      বদলে যাওয়া মানে কি   বর্জ‌্যের তলায় হারিয়ে যাওয়া   বদলে যাওয়া কি   পশুত্বের খোলস পরিধান করা ?    বদলে যাওয়ার নামে    পান করছে কেউ রাক্ষুসে বিষের হাঁড়ি    বদলে যাওয়ার নামে  নির্বাপিত করছে জ্বলন্ত প্রদীপ  বদলে যাওয়া যেন   অনেকের কাছে   কেবল মৌসুমী খোলস পাল্টানো   গরলে ভরপুর বিষধরের ন্যায় ! একদা কেউ একজন   তত্ত্ব দিয়েছিলেন-  বানরেরা পাল্টে হয়েছে মানুষ;   কোথায় সেই বিজ্ঞানি  যিনি প্রমান করবেন:  মানুষ বদলে আজ হয়েছে পাথর কতেক  শেকড় বিহীন উদ্ভিদ শুধু শুধু !   বলে দিও তাদের-   বদলের ইতিহাস লিখে রাখে মানুষ   বদলায় ইতিহাসের ধারা  মানুষের সুরে সুরে  কলমের ডগার ধারালো ক্ষুরে !          ...

মায়ের ছায়া ........

মায়ের ছায়া .......  ------------------  জানি আলস্য ভীষণ বিভ্রাট  খালি মুণ্ডুতে শয়তানের বসবাস  কত কিছু যায় খেলে ! এমনি আজ  আলস্যে ভরা দিন এক  কত প্রশ্ন  কত স্মৃতি আসছে ভেসে  মনের পাটাতনে !  সুর্যের প্রখর উত্তাপে  মনে পড়ে মায়ের কথাঃ  কেমন ছিল তাঁর অবিরাম পরিক্রমণ  সংসার সুর্যকৈ ঘিরে-  ঠিক যেন ধরণীর মত করে ! সংসারের যত দায়ভার  ঘুরতো সদা মাথায় তাঁর  চক্কর তাই কাটতেন দিবানিশি  তবু শুনিনি কভু কোনো উহ আহ ! জানিনা কেমন করে  এতো ঝঞ্ঝাট সয়ে  মুখে তবু লেগে থাকতো হাসি  যত দায় সকলের তরে  নিজের চাওয়ার ছিলনা কিছু তাঁর !  না কিছু চাওয়া না কোনো স্বার্থ  নিজের মর্জি  নিজের নেই কোনও গরজ  নেই আরাম আয়েশের পরোয়া ছিল এ কেমন  আজব জীবনধারা ! তাকাই যতবার ধরণীর দিকে  দেখি এ কেমন অদ্ভুত মিল   অবিরাম ঘুরছে ধরণী যেমন  দেখি আমার ঘুর্ণনশীল মায়ের স্বরূপ   নিরন্তর অবিরাম। ঋতু আসে  চলে যায় বছরচক্রে   ধরণীর নেই পরিবর্তন  মায়ের ধরণী ঘ...

প্রতীক্ষা।

প্রতীক্ষা  ~~~~~  টুকরো টুকরো রাতগুলো  নিথর ডুবে আছে পানির তলায়  রাতের তারাগুলো কেমন  ঘোরপাক খাচ্ছে নদীর স্রোতে !  দূরের ঐ ঘরগুলোয়  নিদ্রামগ্ন আবাসিক যত  কুকুরের ঘেউ ঘেউ  করেনা তাদের বিব্রত  কেমন শ্রান্ত ক্লান্ত নিঝুম পরিবেশ ! তরুগুলো   আপন স্বপ্নিল নিবিড় ছায়ার আবরণে  অটল দাঁড়িয়ে রয়েছে কেমন ঠেসে হেলান দিয়ে  সদ্য গড়ে উঠা দেয়ালের উপর।  নিঝুম সেই রাতে  এক নিভৃত  দলিজ ঘরের মাচায়  টিমটিম করে জ্বলছে একটি প্রদীপ-  নির্জনে বসে লিখছে আজও সে  সুনিবিড় প্রেমের অপূর্ণ কবিতা !                     © ইকবাল॥                   ২২-০৬-২০২৩।

শুধু মনে রেখো.........

শুধু মনে রেখো.......  ~~~~~~~~~~~~~~ যখনই লেখা হবে প্রেমের কবিতা-   হবে কি লেখা সেখানে  ক্ষুধার জ্বালায় কাতর  প্রান্তিক সেই শিশুদের কথা ?  বিবশ মা-বাবা যাদের  চেয়ে চেয়ে দেখেছে শুধু  ঝরে যেতে এক একটি শুষ্ক পাতা ! গীত হবে যেখানে যখন মিলনের গান-   ঠাঁই পাবে-  শত পীড়া ব্যথা বেদনাবিধুরের কথা ?   ঠাঁই পাবে সেথা সেই দরিদ্র হতভাগার  মৃত পত্নীর লাশ নিয়ে কাঁধে  চলেছিল যে মাইলের পর মাইল ! চর্চা যখন হবে  বিলাসী ঐশ্বর্য  বিত্ত বৈভবের গাঁথা   আর্থিক প্রগতি সমুন্নতির হবে প্রসারণ-  মনে পড়বে সেই কৃষকের কথা-  ধার নিয়েছিল কিছু টাকা বলে  করতে হয়েছে যাকে আত্মহনন ?  মজবুর মজদুর যারা  হবে তাদের প্রতি ধ্যান-  ভদ্রজনের ভদ্র পরিবেশ   তৈরি করে দিয়েছে যারা  লাগিয়ে দিয়েছে দেয়ালে স্বচ্ছ আয়না  ভেসে কি উঠবে সেই গ্লাসে  শ্রমিকের বিবশ চাউনি ?  অবকাশ পেলে হে রাজন-  মনে করো ওই নিষ্পাপ নিরস্ত্র শোষিতের কথা;  যাদের রক্তের লালিমা লেগে আছে তব সিংহাসনে...

দ্বীপদী

বলছে কে কী কখন-  ছেড়ে দাও সে ভাবনা সে ধ্যান,    প্রশ্নের ঝড়ে ডাল ভাঙে শুধু   ছেড়ে দাও সে ভাবনা সে ধ্যান।  পদবিক্ষেপ হোক এমন তব  গন্তব্য এসে পৌঁছায় কাছে।  শত যোজনের কর পরিকল্পনা   দিন মাস বছরের ছেড়ে দাও ধ্যান !

পাহাড়ি নদী ........

পাহাড়ি নদী ........  ~~~~~~~~~~~         খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর পাড়ে বসে থাকি কিছুক্ষন  কেমন এ অদ্ভুত অনুভব- টেনে নিতে চায় নদী তার মত্ত প্রবাহের সাথে ! সামলে রাখি নিজেকে কিন্তু নদী যে উত্তাল ঢেউয়ের ছিটা আছড়ে পড়ে  চেহারায় বন্ধ করে রাখি দুই চোখ ! অবশেষে ছেড়ে দিয়ে ঠাঁই  দৌড়ে দৌড়ে উঠতে চেয়েছি পাহাড়ের চূড়ায়; পিছু ছাড়ছে না তবু নদী হুঙ্কার তুলে করছে ধাওয়া পিছু পিছু  প্রবেশ করতে চাইছে আমার ভেতরে ! অবশেষে বিদায় নিয়ে ফিরি পাহাড়ি নদীর কাছে থেকে বিদায় কালে প্রতিবার মনে হয় সে যেন এক চপল চঞ্চলা বালিকা ঢেউয়ের তালে তালে উন্মনা ক্রীড়ামত্ত; চায় সে তার  খেলার সাথী করে !          © ইকবাল॥        ১৪-০৬-২০২৩।

চলতে হবে কত আরও পথ ...... ***********************

 চেতনা আর চিত্তে লেগে আছে যে আঘাত-  শুকোতে দেবনা তারে  ভরতে দেব না সেই খাদ  এই আঘাতের জোরে  ফিরে পাই প্রেরণা যত  ফিরে পাই এগিয়ে চলার উদ্যম !  আসুক যতই চাপ  জ্বলুক যতই দাবানল এগিয়ে যেতে পথে ঘায়ের স্মৃতি হয়ে উঠে  পায়ের জ্বালানি আমার-  সইতে হবে   খানিক বেদনা আরও  সাঁতরে হতে হবে সাগর পার  নবীন বন্দরে যখন   পড়বে পদযুগল    ফিরে পাব কাঙ্ক্ষিত সেই   অমল অনন্ত ফুল্ল জীবন !                   © -ইকবাল।                    ১১-০৬-২০২৩।

সীমিত এই রাত, চলেই যাবে....

সীমিত এই রাত, চলেই যাবে....  এই রাতটাও চলে যাবে  আসবে নতুন আলোকিত প্রভাত  বেরিয়ে আসবে নতুন পথ  আসবে এক নতুন সুখবর। ক'দিনের এই বন্দীদশায়  জীবন যেখানে আছে পড়ে-  থাকনা, থাক নিরাপদ শুধু  মিলিয়ে দেবেন ফের প্রভু  সকল আত্মজনের সাথে;  বাঁধভাঙা নদীর স্রোতও  নেমে যাবে তরতরিয়ে একসময়। জানি এই মৌসুমে আর  ফুটবে না ফুল, ধরবেনা কলি  বাদলা আকাশ হতে   হয়তোবা ঝরবে না খুশির বর্ষন  প্রত্যয়ী ভীষণ তবু আমি  আসবে শীঘ্রই ঈদের সওগাত  সকল প্রার্থনা হবে মকবুল ! জানি- হেরে যায় বান্দাহ কভু   এগিয়ে চলা তবু তার পরিচয়  যতই আসুক চাপ চারদিক হতে  দিল খুলে হাত তুলে বলে-  প্রভু, তুমি রাহমান ! কেটে যায় সকল সংকট অনটন  জগত হয়ে উঠে ফের রঙিন। সীমিত এই রাত, চলেই যাবে  চলে যায়ও  আসে আলোকিত নতুন প্রভাত  খুলে যায় প্রত্যয়ের নতুন সোপান।                           -ইকবাল।                ...

গুহার আঁধারে আমি, যেমন আম্বেদকর..….

গুহার আঁধারে আমি, যেমন আম্বেদকর..….            -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥             চোখের গুরুত্ব কে জানে  অধিক তার চেয়ে   অন্ধ যে জন্মাবধি,   স্রষ্টাকে ধন্যবাদ তবু-    সংখ্যা এদের নগণ্য একেবারে।  কিন্তু আফসোস ওদের নিয়ে  স্রষ্টা যাদের ধন্য করেছেন  দুটি চোখ দিয়ে-  তবু তারা অন্ধ হয়ে রইল চিরকাল !  আফসোস ওদের নিয়েও  নিজের বিবেক যারা বন্ধক রেখে দিয়েছে  রক্তমাংসের ভিন্ন সত্বার কাছে-  জিভ দিয়ে করে শুধু ওদের জোগালি !    তাকাই যখন নিজের দিকে  বিব্রত হয়ে দেখি   ওই জোগালির মিছিলে  কেমন আটকা পড়ে আছি   বেরোতে যতই করি টানাটানি  তলিয়ে যেতে থাকি আঁধার গুহার ভেতরে।  এমনি কোনো একটি গুহায়  আটকে রাখা হয়েছে   বাবাসাহেবকেও,  বাইরে ছিটকিনি দিয়ে  দেখছেন চেয়ে চেয়ে ক্ষতগুলো শুধু-   শুনতে পায়না কেউ তাঁর আর্তনাদ !                 ...

মায়ের ছায়া ।

পুরোনো বাদামি মাদুরটি  অক্ষত রয়েছে আজও  লেগে আছে তার বুকে  মায়ের মায়াবী ছায়া  !  শীতের মৌসুমে   এ্যলবাম খুলে দেখি   জং ধরে গেছে  ছবির এখানে ওখানে  কিন্তু মাদুরে পাতা চিত্রটি  মাদুরের মতই অক্ষত আজও !  মনে পড়ে-  মায়ের বুকের সেই নিরাপদ আশ্রয়   নির্ঘুম চোখে  ধীর লয়ে অমৃত সুধা পান  সকল কল্পনা পরিকল্পনা  নিথর নিঝুম যেখানে  !  ইচ্ছে করে  কংক্রিটের দেয়াল ভেঙে   পৌঁছে যেতে মৃত্তিকার নিগুঢ় আশ্রয়ে !                     ১৭-০৩-২০২৩।

এ কোন অদ্ভুত অনুভব ......

একটি আমি-কে  হারিয়ে ফেলেছি অজস্র 'আমি'র মাঝে  সরীসৃপ দুপুরে ঘসটে ঘসটে  এগিয়ে চলেছি কোন এ নবদিগন্তে  যতই নুড়ি খুঁজেছি  ঢালু পাহাড়ি ঝরনায়  পথ আটকে রেখেছে  বিশালাকার পাথরগুলো !  দ্বিধাদ্বন্দ্বে পথ পাল্টানো  পথ হারানো  ফের নতুন পথের সন্ধানে নিমগ্ন;  চেয়ে দেখি-  একটি কাটা ঘুড়ি  ধেয়ে আসছে মাথার উপর......                       ১৭-০৩-২০২৩। 

ক্যারল ছোঁয়া...

বসন্ত যখন পূর্ণযৌবনা  পাতাহীন প্রাচীন গাছেও  ফুটছে টগবগে কথাকুসুম,  দুঃখরাজি ঝরিয়ে ফেলে  নতুন স্বপ্নের আবেগে  গড়তে আগ্রহী  নতুন মোমেন্টারি।  সীমান্তের ডানায় যখন  ফুরফুরে দাবানল  সমাগত বর্ষার সিগন্যাল দিয়ে  ধেয়ে আসে ঝড়োহাওয়া  বৃক্ষশিরার দহনজল   নিভিয়ে দেয় স্পর্ধিত আগুন !  পোড়া হৃদবিজনে  বেজে উঠে নতুন ক্যারোল ধ্বনি ।                      ১৮-০৩-২০২৩।

জীবনের দেনমোহর।

মেলামেশা   সেই কতকাল ধরে  দেনমোহর শোধ হয়নি আজও।  কাবিননামাটাও     খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আর;  জানিনা কোথায় জমা হয়ে আছে   কত খাদ্য পেয় লেহ্য  কত রক্তের ফোঁটা ঘামের ছিটা  কত যে বীজ বোনা হয়েছিল  ফসল ফলেনি পরিমিত  প্রতীক্ষায় শুধু  কেটে যাচ্ছে কাল !   কিছু কিছু ভোর হয়  কিন্তু সূর্য উঠেনা  দিন বয়ে যায়  সন্ধ্যা আসে  অথচ চাঁদের দেখা নেই  নেই একটাও তারা  অথবা ভূতলে কোনো জোনাকি  !  বিজলি চমকাচ্ছে  বিজলিরা প্রচণ্ড ভালোবাসে ঝড়  আরেকটি দেউলিয়া রাত পাড়ি দেয়া  আগামী প্রভাতে কিরণের প্রত্যাশায় !                     ০৬-০৩-২০২৩। 

দ্বিপদী

সুখ আর শান্তি- কপোত-কপোতি দেয়না সঙ্গ সদা সবারে চিরকাল,  চিত্তে যদি তৃপ্তি না রয়-   শান্তির তরে   সুখিরাও  বড়ই কাঙাল!

মোহনার পথে......

হেঁটে চলেছি কতকাল ধরে   রঙ বেরঙের দুনিয়ায়   বহু নদী পেছনে ফেলে আমাকে   মিশে গেছে পথের মধ্যে   সাধনায় সঞ্চিত অক্ষরগুলো   রঙিন পেন্সিলে সাজিয়ে রেখেছি   প্রগতির মিনার গড়ব বলে  আকিঞ্চনে ভরপুর চৈতন্যের ঝুলি।   ফাল্গুনি ভোরের শিশির স্পর্শ করে  কলুষমুক্ত করতে চাই দুখানা হাত   প্রভাতী রোদের চাদর জড়িয়ে  এগিয়ে চলেছি তাই  রোদ যখন হলুদ বরণ-   পরশে জ্বলে উঠে নবীন অনুভব  বেরিয়ে পড়েছি নতুন পথের সন্ধানে   মোহনার পথে     গুটি গুটি পদচারণা শুধু  ..... !                      ০৬-০৩-২০২৩। 

সেদিনের শবে বরাত.....

সেদিনের শবে বরাত......                   -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  কত কথাই মনে পড়ে-    যখন বসে থাকি একা    ইচ্ছে করে গল্প লিখতে    জীবনের গল্প    বাল্যের সেই পাড়াগাঁয়ের গল্প।   কাঁচা বারান্দায়    সূর্যের রেশ পড়তো যখন    মুখাবয়বে    কিচিরমিচির পাখির ডাকে  চনমনে মনন  'ইছারাঙা' উপাখ্যান   এমনি এমনি রচিত হয়নি ! শা'বান মাস মানেই-     হালুয়া রুটির মাস    শিন্নির মাস !   এরই মাঝে একটি রাত    শবেবরাত    বছরের একটি রাত     মুক্ত বিচরণের ছাড়পত্র যুক্ত রাত  মসজিদের নামে    গড়ের রাস্তায় নিঝুম আড্ডা    শেষ রাতে হাফ-রোযার সাহরী ! মনে পড়ে-    মায়ের লালিত লাল মোরগ জবাই   হাতে হাতে গুটিকয়েক মোমবাতি   ঘরে ঘরে দীপাবলীর লুকোচুরি !  সেই  'দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না' !          ...

আমার ভালোবাসা .......

আমার ভালোবাসা .......                -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  চাঁদের আবরণ ভেদ করে    কিছু যেন উঁকি দিচ্ছে    কিন্তু সময় আছে কার   এসব দেখার ?   সকলেই মত্ত যখন বিত্তের পেছনে   প্রকৃতির অপরূপ রূপ  অবলোকনের সময় আছে কার ?   ভালোবাসার হ্রদে সাঁতার কাটতে  দক্ষ নাবিক হওয়া আবশ্যক নয়;  কিন্তু নাও যদি ডুবতে বসে-  নাবিকের দরকার হয় তখন।   আমরা মানুষ,   আমাদের রয়েছে গভীর ভাবাবেগ   আছে অনেক বিচ্যুতিও  ফোঁকর হীন আদর্শ নিয়ে  বেঁচে থাকতে পারে   হয়তো কেবল যারা অতিমানব !   নয়ন আমার ভিজে উঠে   যখন দেখি বেদনায় ভারাক্রান্ত মানুষ  অনুভবের আবেগ উথলে উঠে  যখন কোনো জন্তুকে দেখি আঘাতপ্রাপ্ত-  ঠিক তেমনি প্রকৃতিকে দেখি  নিসর্গ সৌন্দর্য নিয়ে বিরাজমান  আমার পরিধির মাঝে !                      ০৪-০৩-২০২৩।

দেবেন হুজুর, ১০টা মিনিট সময় ?

দেবেন হুজুর, ১০টা মিনিট সময় ?                     -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥ ভেঙে ফেলুন,  গুড়িয়ে দিন আমাদের ঝুপড়িটা  মিটিয়ে দিন আমাদের ঠিকানার অস্তিত্ব !   শক্তিশালী বুলডোজার    সমতল করে দিক আমাদের ভিটা    আমাদের মৃন্ময় চাতাল;    কেবল দশটা মিনিট সময় দেবেন হুজুর-  মাত্র দশ মিনিট সময় ? না, আমরা কোন প্রতিবাদ করব না   প্রতিবাদ আমরা করতে জানিনা  প্রতিরোধ কারে কয়- তাও আমরা জানি না !   এইটুকু জানি শুধু-   এই চালের তলায় রয়েছে   আমাদের আরোও গুটিকয়েক ঝুড়ি     কিছু লজ্জা ঢাকার বস্ত্র    আর স্বল্প কাঁথা-বালিশ;   নিয়ে আসতে পারি হুজুর-   দেবেন আরোও দশটা মিনিট সময় ?   নিয়ে আসতে দিন আমাদের   গুটিকয়েক কাগজ    বাঁশের তাকে যা রয়েছে সংরক্ষিত   যে কাগজ আমাদের দেখাতে হয় বারবার    যে কাগজ স্বীকৃতি দেয় না আমাদের নাগরিক অধিকার    যে কাগজ নি...

এ নয় শিশুর খেলা....

 এ নয় শিশুর খেলা......                 -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  কবির কথায়-  যতই বিশেষজ্ঞ হোক প্লাম্বার   বন্ধ করতে পারেনা  চোখ থেকে প্রবাহিত জলধারা  যে ধারা প্রবাহিত হয়  নিপীড়িত নির্যাতিতের আঁখি থেকে !  পারবেই বা কি করে ?  ওটা কি জলস্রোত ?  না,  সে জল নয় !  যদিও অজ্ঞরা দেখে শুধু     প্রবাহিত পানির ধারা;  ব্যথিতের অশ্রু হলো  এক লবণাক্ত ভূগোল  অথৈ তরল পদার্থের অসীম ভাণ্ডার !    অশ্রুর আছে কত রূপ  কত অবয়ব  হতে পারে কখনও  সে সুখের অমূল্য রতন    হতে পারে  হারিয়ে পাওয়া বেদনার স্পন্দন  হতে পারে  ভালবাসার তৃষ্ণা নিবারণ !  কিন্তু যখন এই তরল পদার্থ  যালিমের হাতিয়ার  কামান বন্দুক বোলডোজারের ঢাল-      ছিটকে পড়ে বেদনাহত হৃদয় চুঁয়ে   প্লাবিত করে দেয় দিগ্বিদিক   নিঃশব্দ সংগ্রামের এ এক অপূর্ব হাতিয়ার !   যে সংগ্রাম-   স্থায়ী হয়না খু...

প্রতিজ্ঞা .......

প্রতিজ্ঞা.......            -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  ভেঙে দাও ঘৃণার প্রাচীর   ভালোবেসে সারা বিশ্ব,  ভালোবাসো কি একটি দিবসের ধন-    ভাবছো এমন যদি, তবে তুমি নিঃস্ব !   প্রেমের সুতোয় যদি গড়ে উঠে    ভালোবাসার এক উষ্ণ চাদর  গায়ে জড়ালে তা-   রইবে না ভেদাভেদ আপন পর !   আমরা দেখেছি বৈষম্য জাত ধর্মের   দেখেছি যত উচ্চ নীচ বিভেদ,   কি দিয়েছে তা জগজনে-  বাড়িয়েছে শুধু আফসোস আর খেদ !  এসো তাই গড়ি ভাই   মমতা ক্ষমা ভালোবাসার একটি সংসার,   করবে তা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ   হবে তা মোদের অহংকার।    হোক সে প্রজ্ঞা প্রতিজ্ঞা মোদের   প্রজন্মের প্রতি সেরা উপহার,      কেটে যাবে সকল আতঙ্ক বিশ্বের   রইবে না পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা আর।                      ১৬-০২-২০২৩।

সহধর্মিনী .......

সহধর্মিনী....... ~~~~~~~~~~               -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  জীবনের সহযোগি    আত্মার যিনি কাছের জন    সংসারের সকল সুখ দুঃখ  আগলে রাখে যেজন  জগত যারে বলে সহধর্মিনী-  ইতিহাস তাদের ক'জনকে রেখেছে মনে !   জ্ঞান বিজ্ঞান ফিলোসফি  কাব্য সাহিত্য সকল  যার সান্নিধ্যে ব্যতিরেকে  হয়না সম্পাদন-  ক'টি গ্রন্থে রয়েছে তাদের স্বীকৃতি ?    ক'জন করেছে তাদের  জীবন গ্রন্থন !  যাদের দুঃখগুলো   মিশে যায় হাসিতে তাদের অনর্গল     কে ই বা জানে তাদের  হাসি কান্নার তারতম্য     যে হাসতে হাসতে জানে লুকোতে  কান্না  সামলে নিতে জানে সকল দায়ভার   দেহমনের সকল বেদনা গোপন করে-   সভ্যতার বিকাশে কোথায় তাদের স্বাক্ষর !   কবিরা রচনা করে কাব্যের সুগন্ধি  অর্জন হয় কত নামধাম   নিজের অজান্তে বেঁচে ফেরে  কতজনে স্ত্রীর বদনাম !   যার আলোকে জন্ম নেয় ভাষা   তাদের ভাষা বোঝার সা...

গণ আহ্বান ........

গণ আহ্বান ........                   -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥                    কুটিল কুচক্রি যত দেশটাকে করছে বরবাদ  জ্বলন্ত সমস্যা ছেড়ে ন্যকড়া লয়ে হয় যত বাদ বিসম্বাদ !  ক্ষুৎপিপাসা দারিদ্র্য ব্যাধির আগে করো সুচিকিৎসা   গাইবে তারপর দিল খুলে রাম অথবা রহিমের যত কুৎসা ! হোক পরিচয়- জাতপাত উচ্চ নীচের জন্ম দিয়েছে কারা ?  ধর্ম লয়ে বকধার্মিকেরা কেমন উচ্ছসিত পাগলপারা!  জনতা কতই সুখী, উত্তম সরকার আর  শাসনতন্ত্র-   দিচ্ছে প্রতিদিন সংবাদ টিভি আর যত  সংবাদপত্র! জানি- একাংশ সরকারি অনুদাস কুচক্রি বেইমান  তবু তো ফুলে ফলে হচ্ছে ফুল্ল সুশীল দেশ হিন্দুস্তান !  সময় এসেছে এবার করতে সম্পন্ন আপন দায়ভার    আবশ্যক নয় দেখা- কোন মিডিয়া মোরে কতটা করছে কভার ॥                ০৭-০২-২০২৩।  

বুকের পাথর .......

বুকের পাথর ........              -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥ এক ঢোক পানি ছিল হাতে  নিজেরই অজান্তে  কখন বরফ হয়ে গিয়েছিল  নাকি দ্রোহের হাতিয়ারে পরিণত  একখণ্ড পাললিক শিলা ?  সেদিন দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম  একেবারে সূর্যের মুখোমুখি    একখণ্ড মেঘ   হঠাৎ করে উড়ে গেল    পিঞ্জর ভেঙে পলাতক পাখির মতো  যেন নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে  উৎসবের সকল আয়োজন থেকে ! একদা এক পাহাড়ি নদীর বুকেও  ভাসতে দেখেছিলাম    অসংখ্য পাথরের নুড়ি  তুমি তো সেদিন সঙ্গে ছিলে   দেখেছিলে সেই পাথরের ভাসান ?  বরফ একসময় গলে যায়  উড়ে যায় মেঘমালা   ভেসে যায় পাথরের নুড়ি গুলো  সবকিছু হারাতে হারাতে   তবু মানুষ কুড়ুতে থাকে  আরও কিছু পাথর  জগদ্বল স্তরিভূত করে রাখে  আপন বুকের উপর  ঝড়ের দমকা হাওয়া থেকে  নিজেকে রক্ষা করতে !                 ০৬-০২-২০২৩।

প্রত্যয় ........

প্রত্যয় ..........           -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥ জীবনের এক অদ্ভুত মোড়ে এসে পৌঁছেছি  জানিনা কোনটি সঠিক দিশা  বোধগম্য নয় এগোই কোন পথ ধরে।   আমার বলে যারে ভাবি     কেমন তাকায় সে আজকাল-  যেন অপরিচিতজন !  তারপরও ডাকতে পারি   আত্মজন বলে ?  পেতে পারি নিজের মতো করে ?   কারে কি কই !    একা একা শুধু আওড়াই  সম্বন্ধের সেই পুরোনো শব্দগুলো   যদি হয় কিছু প্রভাব তার;  কিন্তু বৃথা  শব্দগুলো হারিয়ে ফেলেছে  তার সকল পরিচিতি  জারি করেছে আমার উপর  অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা !    খনিজ তলিয়ে যেতে থাকে  আমিও ভরসা রাখি  তলিয়ে যেতে যেতে  একদিন দেখতে পাবো  ভূতলের আলোক রশ্মি  রঙিন হবে আগামীকাল  নির্দিধায়।                 ০৪-০২-২০২৩। 

অকুতোভয় ......

যারা অকুতোভয় .......              -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  জগতের বহুল অনুশীলিত এক সত্যের নাম মৃত্যু    নদীর আলাপ আর বিলাপ  সূর্যের দৈনন্দিন গমনাগমন  বাতাসের অবিরাম প্রবাহ-  সবার মধ্যে মৃত্যুর ঘোষণা  কেবল ডেসিবেলের তারতম্যে  আমাদের কাছে রয়ে যায় অশ্রুত !  ঋতু আসে যায়   অনুভবের হয় তারতম্য      দাগ লেগে রয় ভূমিতে   সময় সময়ের সাক্ষ্য      কার কোথায় টানাপোড়েন  কেনইবা তারতম্য এতো কারও ধারদেনার বোঝা  কারো উপচে পড়া ভোগের মাঝেও   সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা !  শান্তি কোথায় ?   আর প্রস্তুতি ?   যেতে তো হবেই সবাইকে   চরম আর পরম সত্য  মৃত্যুর মুখোমুখি হতেই হবে    কিন্তু পারেনা,  হ্যাঁ, ভোগবাদীরা পারেনা   মৃত্যুকে স্বাগত জানাবার সাহস করতে    পারে শুধু তারাই-  যারা যাপিত জীবনের প্রয়োজনে হয় দূরগামী   না, মৃত্যুকে তারা ভয় করে না  অকুতোভয় তারাই !   ...

দুর্বোধ্য প্রকৃতি, না গণিত ?

দুর্বোধ্য প্রকৃতি, না গণিত ?      ‌           -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥  নিশির জঙ্গলে   ঝাঁকে-ঝাঁকে আলো   যেন জোনাকির মিছিল   অপরূপ জ্যামিতিক নকশায়...  !  খানাখন্দ পেরিয়ে  বাঁশঝাড় ছুঁয়ে বইছে    বিষাদের নালা ঝিরঝির   ঝরোঝরো পাতা খসার শব্দ    রাতের পারদ হয় গম্ভীর !  জামদানি বাতাসে    বেগুনি আকাশ যখন ঢুলুঢুলু   জুম জ্বলা পাতার  টুকরো টুকরো ছাই  উড়ে বেড়ায় ভোরের আকাশে  চোখ জুড়ানো সেই বুনন-সৌন্দর্য !  বৃক্ষের পাতায় পাতায়  লিখে রাখা অগণন পুস্তক     তৃষ্ণার্ত চোখ ভাষা খুঁজে  নতুন করে অধ্যয়নের   আগ্রহী মনন   কথা বলতে আগ্রহী   নিবিড় প্রকৃতির সাথে ! প্রকৃতির স্থির রাজ্যে     অস্থির ধোঁয়া যখন ঝামটা দেয়-  গণিতের সকল সুত্র  হয়ে উঠে উল্টোপাল্টা     সবাই শুধু সংখ্যা-    জগতের প্রতিটি প্রাণ   প্রতিটি মনুষ্য ও !...

প্রত্যাশা.......

প্রত্যাশা........              -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥               কতদিন আর থাকবো তোমার সাথে   হে জীবন,  জ্যান্ত থাকতে হয়  থাকতে হলে তোমার সঙ্গে  জানি একটা জীবন থাকে ওইখানে-   তাকের পেছনে । গোরখোদকের কাছে গচ্ছিত রয়েছে চাবি– যতনে দেবে তারা পুঁতে  জীবনটা কি নয় আসলে  অব্যবহৃত কাপের মতো ? গৃহিনীর বাতিলকৃত   প্রাচীন ফ্যাশন   অথবা ভেঙে যাওয়া !    এটাও সত্যি-   মরতে আমি চাইনা   প্রেমে পড়ে গেছি তোমার সাথে  হে জীবন- চোখের পাতা বন্ধ করার আগে  খোলা থাকতে হয় দুটো চোখ  কিন্তু আমার তো তা খোলাই হয়নি   দেখতে পাইনি আজ অবধি  যা দেখার ছিল  শুনতে পায়নি কান-  যা শোনার ছিল !   জানি-  আমি না চাইলেও  একদিন মৃত্যু এসে দাঁড়াবে পাশে  বলবে আমার উপর তারই অগ্রাধিকার স্থির হিমশীতল করে তুলতে চাইবে   সারা পরিসর-  সে বুঝি তার অগ্রাধিকার? না,   আমি উঠে দাঁ...

কবিতার জানুয়ারি !

কবিতার জানুয়ারি !  ~~~~~~~~~~~              -আ, ফ, ম, ইকবাল॥ ঠান্ডা বেড়েছে খুব  ফোন ধরতেও হাত হয় ঝিম   কম্বলের বাইরের জগতটাই হাঁড়-হিম ! গরম পানির লেগেছে ঠান্ডা জ্বর    কফি হয় মুহুর্তেই লাল  আর চা করে ধীরে ধীরে     পাশ পরিবর্তন।  সকাল হোক  দুপুর অথবা সন্ধ্যা-  পড়ে রয় অথর্ব হয়ে   দুধ খেয়ে শুয়ে থাকা  আলসে বেড়ালের মত করে ! ওদিকে   মেলাগুলো চঞ্চল হয়ে উঠে  কত হাসি উল্লাস হৈচৈ  পকোড়ায় শুধু উষ্ণতার ছোঁয়া  অবশ্য কোথাও জমজমাট  মেলা-বই !  জানুয়ারি নেমে গেলেই   সরে যাবে বইয়ের মেকআপ   ক্লান্ত নায়ক নায়িকার মতো অভিনয় থেকে ফিরে  গভীর নীরবতায় সকলেই   ডুবে যাবে নিঝুম নিশ্চুপতায়। সমাগত ফেব্রুয়ারি-  জীবনে জন্ম নেবে নতুন বসন্ত   নতুন বাহনে নবীন যাত্রায়  মত্ত হয়ে উঠবে সবাই  আগামী শীতের প্রতীক্ষায়   শোকস্তব্ধ রইবে  এবারের সংগৃহীত পুস্তকরাজি !      ...

উত্তরণের খোঁজে ......

উত্তরণের খোঁজে ......                -আ, ফ, ম,  ইকবাল।  হে জীবন,   যাত্রা তোমার বড় মধুর  প্রথমে দেখাও স্বপ্ন কত রঙিন  পুরন করতে তা নিয়ে যাও বহুদূর !  প্রান্তিক ঠাঁয়  দাঁড়িয়ে বলি ভাই-   নিয়ে যাও সকল স্বপ্ন তোমার  ফিরিয়ে দাও মোরে  স্মৃতিমাখা সেই দিনগুলো ফের, ফিরিয়ে দাও মাটির সেই পরশ    চেতনায় আঁকা সেই ছবিগুলো !  নীল ডানায় ভর করে    আকাশ থেকে তুলে আনা     রেশম চোখের   সেই সুন্দর লালিমাময় ভাষা   যার সামনে সামনে নীরব নিশ্চুপ    সকল হতাশা   ফিরিয়ে দাও  সেই ভরসার হাতগুলো  আমার কাঁধ থেকে   স্খলিত হয়ে যা  চলে গেছে বহুদুর ! জীবন হে মোর   জানি- বেঁধেছ তুমি ঘর  আমার চৈতন্যের দাওয়ায়  ঘুম থেকে উঠেই দেখি তোমায়  ঠাঁয় বসে আছ   প্রলম্বিত দুপুরের তপ্ত আতপে  নেই বুঝি ক্লান্তি এতটুকু ?   সেই যে করেছিলে আলিঙ্গন   জানি ছাড়বেনা...

কখন আর শোধরাবে মানুষ ?

কখন আর শোধরাবে মানুষ ?                   -আ, ফ, ম, ইকবাল॥  বুঝলোনা মানুষ কভু পাহাড়ের পীড়া  যুগ যুগান্ত ধরে যে পাহাড়  বিলিয়ে দিচ্ছে জ্ঞানের ধারা  ছড়িয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধি উপহার   বহুরূপে- মানুষের তরে !   পাহাড় কেটে হচ্ছে তৈরি   উর্বর কৃষি-ভূমি  ঝরিয়ে আপন চিত্ত  করছে প্রবাহিত কত নদ-নদী  বাহুডোরে দিচ্ছে বিছিয়ে   অগণন কাঁচাপাকা পথ ।  সর্বখেকো হায়রে মানুষ ! খায় পাহাড়ের ফলমূল  তুলে আনে  পাহাড়ের পরতে পরতে বিছানো  গর্ভে লুকানো সকল সম্পদ  বুঝেনা শুধু   পাহাড়ের চিত্তে ঘনিভূত পীড়া ! বিকাশের নামে আজ   কঠিন পাহাড়ের বুকে বিরচিত অজস্র খাঁজ   তবু নির্বাক  নিশ্চুপ সয়ে যায় পাহাড়  যুগ যুগ ধরে  সভ্যতার সকল অত্যাচার !  হয়তো বাসনা ছিল মনে    শীঘ্র একদিন বুঝবে মানুষ    গহন গভীর বেদনা তার  সুরক্ষিত হবে ফের  পাহাড়ের গ্লেসিয়ার !  না,   থামেনি মানুষ ...

সহযোদ্ধা-কে.....

সহযোদ্ধা-কে .......                -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥ সুর্যের সকল উত্তাপ  শুষে নিয়ে তুমি একা   ফিরিয়ে দিচ্ছ তা   শান্ত সংসারি সমীরণ রূপে    আঁধারে লুকিয়ে রেখে   আপন সত্বা  মুচকি হাসিতে  পরিসর রেখেছ ঘিরে।  আমার রবি যখন কাৎ হয়ে গেছে পশ্চিমাকাশের দিকে  পুর্বাকাশের আলো হয়ে তুমি   রেখেছ সদা উত্তাপ ধরে  পরিমিত করে !  জীবনের এই কাঠিন যাত্রাপথে  আছো নিরত সাথে সাথে  ধরেছ নায়ের বৈঠা হাতে  আমি তাই গান গাই  নবীন উদ্যমের সাথে !  ধন্য আমি  সহযোদ্ধা এমন পেয়ে  ফুটেছে রঙিন কুসুম  যার হাত ধরে  আমার এই ক্ষুদ্র সংসারে !  জানাই শুভেচ্ছা অঢেল  সংসার কমান্ডারের তরে  আরেকটি নতুন বছরে-  চির জনমের তরে।                     ১২-০১-২০২৩।

সময়-ক্রম .......

সময়-ক্রম .......          -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥ সময় লিখতে থাকে নিশ্চুপ নির্জনে  সময়ের ইতিহাস।  ফেলে আসা দিনগুলোর স্বীকৃতি   আমি আপনি না দিলেও  সময় সেই শিক্ষা দিয়ে যায়  সময়ই কালের সেরা গুরুজী !  সময়ের বিবৃতি লেখা থাকে আমাদেরই চারপাশে  পড়তে হয় তারে  চেতনার চোখ দিয়ে  সময়-গুরুর হাত ধরে  রোমাঞ্চকর সেই  সময়ের ধারাপাত ! ধরণীর পাতা  আকাশের খাতা   অপ্রতুল একেবারে   সময়ের ইতিহাসের তরে।  সময়ের কার্যক্রম  সময় লিখতে থাকে  আটকাতে পারেনা তারে   কারো চাওয়া পাওয়া  সময়ই সময়ের শাশ্বত ক্রম !                  ১০-০১-২০২৩।

প্রকৃতির শিক্ষা.....

প্রকৃতির শিক্ষা ......             -আ, ফ, ম,  ইকবাল॥   ভোরের কুয়াশায়   ঝরে পড়ে বিন্দু বিন্দু দ্রোহ   প্রভাতী সূর্যের সাথে   আকাশের নৈমিত্তিক মিতালী    তাই দেখে দিন শুরু করে প্রকৃতি      ডানা মেলে পাখি    পথ চলা শুরু করে মানুষ।  খেচরের নেই চেনা পথ   তৈরি করে তারা নিজেদের পন্থা    চেনা পথে চলতে চায় মানুষ    তবু হোঁচট খায় বারে বারে;   দ্রোহ দেখিয়ে খাঁচা ভাঙে পাখি    সেই দ্রোহে খাঁচা বন্দি হয় মানুষ  জানেনা সে- কি তার দোষ ?    জানে এটুকুই-    ব্যক্ত করতে চাইছিলঃ আমিও মানুষ !  অসীম প্রকৃতি   চিরহরিৎ বনজঙ্গল   ছায়া করে রাখে আমাদের চারপাশ  সখানে সগর্ভা হয়   আমাদের সকল বিলাস   আমাদের সত্ত্বা   আঁকা হয় নবীন স্বপ্ন   নতুন উদ্যম   প্রসারিত হয় অগণন শাখা-প্রশাখা।   'মানুষ'    নামের আগে গ্রাম চায়...