ফেসবুকীয় কিছু অভিজ্ঞতা।
ফেসবুকিয় কিছু অভিজ্ঞতা।
স্কুলে পড়ার সময় স্যাররা সাহিত্যের পাঠ পড়াতে গিয়ে কোনও সময় কিছু কিছু বাক্য বা কাব্যাংশ দিয়ে বলতেন- সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা লিখো।
যেমন- 'যেখানে কূলীন জাতি সেখানে কোন্দল' । কিংবা- 'আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে'।
অথবা '.....Mr.Bell rang the bell of alarm in my ear and I awoke' .
কিংবা জুলিয়াস সিজারের সেই বিখ্যাত উক্তি- “You too, Brutus?"
এসব বাক্য বা কাব্যাংশ শুনে, কেবল ফেসভ্যালু দিয়ে উদৃতাংশের তরজমা বেছে নিলে তার অর্থ যা দাঁড়ায়, বাস্তবে তার তাৎপর্যের মধ্যে যে আকাশ পাতাল ফারাক রয়ে যায়, ছাত্রাবস্থায় কিছুটা হলেও তা আমরা উপলব্ধি করেছি।
এই যেমন অন্নদামঙ্গল কাব্যের ঈশ্বরী পাটনী দেবী অন্নপূর্ণাকে, যিনি আত্মগোপন করে নদী পারাপার করতে নদীতীরে পৌঁছেছেন- তাঁর পরিচয় ব্যক্ত করতে বলায় দেবী রূপকে বাস্তব পরিচয় দিয়েই যাচ্ছিলেন, কিন্তু পাটনী তার সরল তরজমা অনুভব করে বিরক্তির সাথেই বলেছিল- 'যেখানে কূলীন জাতি সেখানে কোন্দল'! অর্থাৎ বড়লোকদের ঘরে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে।
!
জুলিয়াস সিজার নাটকে সিজারের মুখ দিয়ে ছোট্ট উক্তি “You too, Brutus?" তেমন তাৎপর্যপূর্ণ কিছু নয়, কিন্তু ছোট্ট এই উদৃতাংশের মধ্য দিয়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার মানবজাতির এক ক্রুর নিঠুর সত্বাকে নিদারুণভাবে তুলে ধরে বাক্যাংশটিকে চিরন্তন করে দিয়েছেন । কিন্তু ফেসভ্যালু দেখলে কি আর মনে হয়? ষড়যন্ত্রের সাথে ব্রুটাস, তুমিও শামিল?
কথা হলো যে কোনো মাধ্যমে- সে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, সোসিয়াল বা ভার্চুয়াল মিডিয়া- যা ই হোক না কেন- লেখালেখি, বলাবলি সব কিছুই সাহিত্য চর্চার অন্তর্ভুক্ত। এবার কেউ কিছু বলতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে যে রায়গুণাকরের মতো একখানা মঙ্গলকাব্য, মাইকেলের মতো একখানা বীরাঙ্গনা বধ কাব্য, গান্ধীজির মতো Autobiography অথবা শেক্সপিয়ারের মতো একখানা পুরো প্লে লিখে দিয়ে উপস্থাপন করতে হবে, সে রকম তো ধরাবাঁধা কিছু নেই ও। তাছাড়া আমার মতো যাদের জ্ঞানের পরিসর অত্যন্ত সীমিত, কিন্তু স্পৃহা রয়েছে কিছু বলার- তাদের পক্ষে তা সম্ভবপর নয় ও। তাই বলে সংক্ষিপ্ত পরিসরে , প্রয়োজনে রূপকে কেউ কিছু বলতে গেলো বলেই তার ভেতরের কথা বুঝার চেষ্টা না করে কেবল ফেসভ্যালু দেখেই ডিল ছুড়তে শুরু করবো?
ফেসবুক এমন একটি ওপেন প্লাটফর্ম যেখানে সবাই সবার মত নিজের মতো করে ব্যক্ত করতে পারেন । এখানে না অবস্থান করছেন কোনো এডিটর, না কোনো পরীক্ষক। এখানে নেই সেই আদর্শ শিক্ষক মহোদয়গণ যারা আমাদের অনুরাগ বিরাগ দুইদিক থেকেই শিক্ষা দানে ব্রতী ছিলেন। তাই বলে এখানের সব বিচার বিবেচনা কেবল সরল রেখায় নিরূপন করা হবে? রূপক বা মেটাফোরের কোনো মূল্যায়ন তার কাঙ্খিত রূপে করার আবশ্যকতা অবশিষ্ট রইবে না? বক্ররেখা অবিহনে ভূগোলের ম্যাপ অঙ্কন কি সম্ভব? অথবা সুশীল চিত্রকলা?
১১-০৩-২০২১
Comments
Post a Comment