সমকালীন ভাবনা ।
সমকালীন ভাবনা।
২০১৪তে তে কিছু লোক খুব খুশিতে হর্ষোল্লাস করছিলেন যে এবার দেশের মুসলমানদের সমূহ অমঙ্গল সুনিশ্চিত ! কিন্তু অমঙ্গলের ঝড় এমন বেগে প্রবাহিত হতে লাগলো যে, আজ দেশের কৃষিজীবীদের থেকে শুরু করে যুবসমাজ, ব্যবসায়ী সমাজ,মহিলা সমাজ- এমনকি সিনিয়র সিটিজেনরাও 'মঙ্গল' খুঁজে পাচ্ছেন না কোথাও। মুসলমানদের চক্করে কট্টর হিন্দু সমাজও আজ বরবাদ হয়ে যাচ্ছেন। রোজগার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, উন্নয়ন বিমর্ষ- এমনকি সম্ভাবনাময় উত্তর প্রজন্ম ক্রমশ দাঙ্গাবাজ হয়ে বেড়ে উঠছে।
মুরুব্বীরা বলতেন- অপরের অমঙ্গল কামনা করে যদি কারো কবর খুড়তে যাও, সেই সঙ্গে নিজের একটি কবর খুঁড়ে রেখো! বড়দের এই কথনের বাস্তবতা আজ আমরা অবলোকন করছি। তাই বলি হিংসা প্রতি-হিংসা নয়, আজ আবশ্যক প্রেম, মমতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক মর্যাদা-র মতো গুণাবলী বিকাশের, উত্তরণের।
রাষ্ট্রবাদ যখন রক্তবাদে পরিণত হয়, কারো রক্তকে ছেড়ে কথা বলে না ! আমরা দেখতেই পাচ্ছি আজ শোষণ হচ্ছে যুবকদের, কৃষকদের,অর্থব্যবস্থার, ন্যায়পালিকা, কার্যপালিকা- সবকিছুরই!
সময় হয়েছে নিদ্রাভঙ্গের। সময় হয়েছে বাস্তবকে উপলব্ধি করার। কেবল ভৌগলিক সীমারেখা রাষ্ট্র তৈরি করতে পারে না । রাষ্ট্র তৈরি হয় এখানকার মানুষদের নিয়ে। মনুষ্যত্বের মর্যাদার স্তর দিয়ে নির্ণীত হয় রাষ্ট্রের মর্যাদা।
তাই আসুন আবেগের অহংকার ছেড়ে দিয়ে, বিবিধতা এবং বৈচিত্রের মধ্যে সংস্থাপন করি দেশের আত্মাকে। সুনিশ্চিত করি আমাদের উত্তর প্রজন্মের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ। তাদের স্বাস্থ্যের, তাদের শিক্ষা, তাদের সম্মানজনক রুজি-রোজগার নিশ্চিত করার।
জয় হিন্দ্ ।
১১-০২-২০২
Comments
Post a Comment