বিশ্বের বিষ্ময়

বিশ্বের বিষ্ময় ! 

    হ্যাঁ, আমাদের এই বিশ্বভুবনটা অবাক বিস্ময়ে ভরা। যেদিকে তাকাই, কেবল বিষ্ময় আর বিষ্ময়! 
    বিষ্ময়ের অন্যতম স্বরূপ হলো জগতের প্রতিটি শ্বাশ্বত বস্তুর রয়েছে দুটি ভিন্ন দিক। ধরুন আমাদের সবচাইতে কাছের জিনিস বাতাস। তার একটি ফুরফুরে রূপ মৃদুমন্দ ঝিরিঝিরি হাওয়া। অপর রূপটি করাল ঝড়ো তুফান! যা দিগ্বিদিক করে দেয় খানখান! 
    একটি নদী। কখনও বন্যার প্রবল বেগে মহাপরাক্রান্ত, কখনো আবার শুষ্ক 'মরাগাঙ'! 
    সাগর মহাসাগর জোয়ারের বেগে তট পর্যন্ত বিস্তৃত, আবার ভাটার টানে অনেকটাই নিমজ্জিত! 
    আমাদের বসবাসের ঠিকানা- এই ধরণী, সে ও দুই বিপরীত ধর্মী শক্তির মুখোমুখি। আকর্ষণ আর বিকর্ষণ। মাঝখান থেকে ব্যালান্স করে রেখেছে অন্য একটি তৃতীয় শক্তি- মাধ্যাকর্ষণ! 
    চাঁদের যেমন রয়েছে শুক্ল আর কৃষ্ণ পক্ষ, তেমনি সূর্যের উদয়-অস্ত, পরিণাম দিনরাত। 
    এভাবে প্রাণী জগতে দুটি স্বত্বার চিরন্তন অবস্থান- নারী আর নর! কর্মের, কথার, অভিব্যক্তির ও দুটি দিক- ভালো মন্দ। 
    ঠিক তেমনি ভাব প্রকাশেরও রয়েছে ভিন্ন দিগন্ত। কারো চোখে জল দেখলেই তা যেমন খালি বেদনার প্রকাশ বলে ধরে নেয়া যায় না, তেমনি স্মিত হাস্যরত ব্যক্তি মাত্রেই যে সুখী, তারও নিশ্চয়তা নেই! 
    একইভাবে রয়েছে অনেক ব্যক্ত অভিমতের থাকে একটি বাহ্যিক অর্থ, অন্যটি লুক্কায়িত গূঢ়ার্থ। 'উলঙ্গ রাজা' বললেই তা যে কেবল রাজন্যের বসন-ভূষন সম্বন্ধীয় অভিব্যক্তি বুঝাবে, তা না ও হতে পারে। বরং আকসার তা সংশ্লিষ্ট রাজার প্রজাসাধারণের প্রতি করণীয় দায়িত্ব কর্তব্য পালনের স্তর উপস্থাপনের জন্য ব্যক্ত হয়ে থাকে। 
    সুতরাং কারো কোনও অভিব্যক্তি, বসন, ভূষণ, হাস্য-রোদন দেখেই তার সরলার্থ তুলে নেওয়া বা তুলে ধরা বিশুদ্ধ না ও হতে পারে। বস্তু বা অভিব্যক্তির গূঢ় অন্তর্নিহিত অর্থ মূল্যায়ন করতে পারাটাই হয় বাস্তবের উপলব্ধি। যথার্থ পর্যবেক্ষণ। 
    নয় কি ? 

Comments

Popular posts from this blog

TO OUR SON (ON HIS GRADUATION).

সমকালীন ভাবনা ।

মিনতি।