আজকের ভাবনা
ভাবনা সমসাময়িক ।
গতকাল কালাইনের অদূরে বদরপুর কলেজের পাঁচ পাঁচটি শিক্ষার্থীর মোটর দূর্ঘটনায় মৃত্যু সত্যিই হৃদয়বিদারক ! বিজ্ঞান শাখায় পাঠরত এই মেধাবী পড়ুয়াদের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে পাঁচটি পরিবারকে করে দিলো আলোহারা। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য তো অবশ্যই, বৃহত্তর এলাকা এবং সমাজের জন্যও এই ক্ষতি অপূরণীয়। সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানহারা মা-বাবাদের।
এই দূর্ঘটনা নিয়ে অনেক ক্ষোভ এবং সমবেদনার জোয়ার অতি স্বাভাবিকভাবেই আজকের মুদ্রণ, বৈদ্যুতিন এবং সামাজিক মাধ্যমে স্থান পেয়েছে- যা প্রত্যাশিত ও বটে। অনেকে আবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে নানা ধরনের চুলচেরা বিচার বিশ্লেষনও করেছেন, করছেন- যা নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। কেবলমাত্র এক অভিভাবক হিসেবে দুটি কথা ভাগ করে নিতে চাইছি।
এই যুগের বাচ্চারা, বিশেষ করে একক পরিবারের অতি আদরের 'একলতি বেটা' আর 'একলতা বেটি'রা যেমন অতি আদুরে, তেমনি অনেক জেদিও। আদরের মারে অনেক অভিভাবকই সন্তানের জেদের কাছে হার মেনে তাদের আব্দার, তাদের আহ্লাদ পূর্ণ করে যান। অথবা যদি বলি পূর্ণ করতে বাধ্য হন, তবুও খুব মিছা বলা হবে বলে মনে হয়না! অবশ্য অনেক সতর্ক এবং হুঁশিয়ার অভিভাবক রয়েছেন যারা সন্তানদের সঙ্গে যথেষ্ট সময় দিয়ে, তাদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে অহেতুক বা অনাকাঙ্ক্ষিত আব্দার গুলো থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেন। এই প্রকৃয়ায় সফলতা পেতে হলে তার জন্য আবশ্যক সন্তানদের যথেষ্ট সময় এবং সঙ্গ দেওয়া। তাদের একান্ত নিকটের জন হয়ে, তাদের মনমানসিকতার অধ্যয়ন করা এবং যথাসময়ে যথোচিত দিকদর্শন এবং নীতিনির্দেশিকা তুলে ধরা প্রত্যেক অভিভাবকের অন্যতম দায়বদ্ধতা। শিশুমননকে পঠন করে সেই অনুযায়ী সময়মতো সততা, নৈতিকতা এবং কর্তব্যপরায়নতার পাঠ ক্রমান্বয়ে গড়ে তোলা আবশ্যক এবং তা সম্ভব ও বটে। এবং অতি অবশ্যই এসব বিশেষনের বীজ রোপন এবং প্রতিপালন করতে হয় ইষৎ ভেজা মাটিতে, শিশুর কচি বয়স থেকে। অতি আদরের দুলালী/দুলাল তার যাবতীয় জেদ পূর্ণ করে অভ্যস্ত হয়ে যখন গড়ে উঠে, তখন সেই পথে ধাবিত হওয়া থেকে তাকে ফেরানো কষ্টসাধ্যই নয়, অনেকাংশে দুঃসাধ্য ও হয়ে উঠে।
আরও একটি কথা। আপনার সামর্থ্য রয়েছে বলেই সন্তানকে কায়িক শ্রম থেকে বিলকুল দূরে রাখা তাদের জন্য প্রকৃত স্নেহের পরিচায়ক নয় কিন্তু। বাচ্চাদের ছোট থেকে খানিকটা শ্রমের মর্যাদা শেখানো একান্ত আবশ্যক। কিছু হাঁটাহাটি, গার্হস্থ্য কর্মে খানিকটা সহযোগিতা নেওয়া, কিছু কায়িক খাটুনি, বহিরঙ্গনের কিছু খেলাধুলায় অভ্যস্ত করে তোলাই হচ্ছে বাচ্চাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম পাথেয়। এই জায়গায় অনেক অভিভাবক পিছিয়ে পড়ে থাকেন আদরের ঠেলায়। ফলে কালক্রমে গড়ে উঠেনা বাচ্চাদের আনুপাতিক মানসিক এবং শারীরিক সামর্থ্য। পরিণামে আজকের অধিকাংশ বাচ্চারাই ভেঙে পড়ে সামান্যতম কায়িক বা মানষিক চাপের কাছে।
শেষ কথা- আপনার সন্তান অবশ্যই আপনার কাছে জগতের সেরা সম্পদ। কিন্তু সার্বক্ষণিকভাবে মনে রাখতে হবে আপনি/আমিই তার সেরা শিক্ষক, সেরা পথপ্রদর্শক, সেরা উপদেষ্টা। তার চাহিদা, তার আব্দার, তার কামনা বাসনা সবকিছু সে আমার কাছেই ব্যক্ত করবে- সে সুযোগ তাকে অবশ্যই দিতে হবে, কিন্তু তার কোন্ আব্দার কখন পূর্ণ করা উচিত, কোন্ চাহিদা থেকে কখন তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বিরত রাখা আবশ্যক, তার বিচারও কিন্তু আমাকেই করতে হবে। এরই নাম অভিভাবকত্ব- যা পালন করা আমার সবচাইতে বড় দায়িত্ব। আসুন, আমরা আমাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে অধিক সচেতন হই, সক্রিয় রই প্রতিদিন প্রতিক্ষণ ।
Comments
Post a Comment