একটি অনুভূতি
একটি অনুভূতি ।
বিদেশ যাত্রা হয়ে উঠেনি আজ অবধি। কিন্তু দেশের কিছু কিছু জায়গায় ঘোরাফেরার পর যে ধারণা জন্মেছে, সেই অনুভূতির খানিকটা প্রকাশ করতে চাইছি।
যেখানে যত মানুষের সাথে মেলামেশা করার সুযোগ হয়েছে, প্রায় প্রতিজন মানুষকেই পেয়েছি ভালোমানুষ হিসেবে। ভালো বলতে আমার চাইতে ভালো। গুহাগর্তের বাসিন্দারা যে একেবারে ফুরিয়ে গেছে,তা নয় যদিও এদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।
সর্প প্রজাতি নিয়ে সাধারণ্যে এক আতঙ্ক আজ অবধি রয়েই গেছে, কিন্তু একথা আজ পরীক্ষিত সত্য যে খুব স্বল্প সংখ্যক নাগই হয় বিষধর প্রজাতির। এদের এড়িয়ে চলা অবশ্যই কাম্য। কিন্তু তাই বলে সর্পকূল নিয়ে মানব সমাজে যে এক ভীতিকর বাতাবরণ বা মিথ গড়ে উঠেছে, সেই সম্বন্ধে যেমন গণসচেতনতা আবশ্যক, তেমনি সমাজের বৃহদাংশ মানুষকে নিয়ে যে অনেকেরই অভিযোগ বা আধান রয়েছে, তা নিতান্তই অমূলক বলে আমার বিশ্বাস।
প্রত্যক্ষ সম্বন্ধের বাইরে আজকাল আরেক প্রকার সম্বন্ধ গড়ে উঠেছে আমাদের মধ্যে- যেখানে জগতের কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা কার্যকর নয়। জগত জুড়ে এই সম্বন্ধ লাভের এবং বহাল রাখার জন্য কোনো পাসপোর্ট ভিসার যেমন আবশ্যক হয়না, তেমনি তার জন্য আলাদা করে বহন করতে হয়না কোনো ব্যয়ভার। সেটি হচ্ছে ভার্চুয়াল সম্বন্ধ। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের যোগসূত্র গড়ে উঠার সুযোগ আজ হাতের মুঠোয়। এরমধ্যে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম আর ট্যুইটার- এই তিনটি মাধ্যমে রয়েছি কিছু বছর ধরে। দেশ-বিদেশের চেনা অচেনা অগণিত মানুষের সঙ্গে কথোপকথন আলাপচারিতা তথা মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে একথাই উপলব্ধ হয়েছে যে সিংহভাগ মানুষই সন্দেহাতীতভাবে ধনাত্মক চিন্তাধারা পোষন করে থাকেন।
কেবল ধনাত্মক চিন্তাধারাই নয়, ধনাত্মক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার ও এক অপূর্ব সুযোগ এসব সামাজিক মাধ্যম। অনেক অচেনা মানুষের কাছ থেকে সংকটকালে যেমন অনেক সুপরামর্শ পাওয়া যায়, তেমনি কোনোকালে দেখা হয়নি এমন কিছু মানুষ পরামর্শ চেয়ে থাকেন- যা বেশ আনন্দদায়ক। সেই সাথে কারো উদ্দোগে প্রারম্ভ হওয়া কোনো শুভকর্মে অংশগ্রহণ করে থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করা সুভানুধ্যায়ী মানুষজন- ব্যক্তিগত চেনাজানা না থাকা সত্বেও।
সুনীল আকাশেও কখনও হঠাৎ করে কালো মেঘ ছায়া করে চলে আসে, কিন্তু তা টেকেনা দীর্ঘক্ষণ ধরে, হাওয়ার সাথে ভেসে যায় খানিকক্ষণ পরই । জগত ফের হয়ে উঠে আলোকময়, উজ্জ্বল।
নয় কি ?
Comments
Post a Comment