এক অনুভব ।

وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ


    জীবনে নিজে না চাইতেই অনেক কিছু ঘটে যায়- পরবর্তীতে মনে হয় এটা তো হবারই ছিল। নিশ্চিতভাবে এর মধ্যেই নিহিত ছিল আল্লাহর মনশা বা পথনির্দেশনা।
    এক অভিজ্ঞতা বলি। সে আজ থেকে দুই দশকেরও আগের। আমার এক নিকটাত্মীয়ের বিয়ের সম্বন্ধ চলছে কোনো এক জায়গায়। এগোচ্ছে, পিছিয়ে যাচ্ছে, হবে, হবেনা- এরকম দোলাচলে দোলছে ঘটনা প্রবাহ। এক সময় মনে হলো সবকিছু শেষ হয়ে যাবে । আমার আত্মজনদের পক্ষ থেকে 'না' সিদ্ধান্ত গৃহীতপ্রায়। দূর্ভাগ্য ক্রমে এই না-এর শেষ মোহরটি গেঁথে দিয়ে আসার দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হলো আমাকে! সে ছিল এক ভীষন বেদনাদায়ক পরিবেশ।
    গেলাম এক সন্ধ্যায়। চা-নাস্তার পর আলোচনা চলছে। মুরব্বি গৃহস্থের সঙ্গে। ওদের পক্ষের ও অনেক অভিযোগ অসন্তোষ উঠে আসছে। ভাবছিলাম আমার কাজ তাহলে সহজ হয়ে উঠছে। এরইমধ্যে কথায় কথায় এমন এক অপবাদ উঠে এলো আমার আত্মীয়দের সম্বন্ধে, আঁতকে উঠলাম! আমার আঁতে ভীষন ঘা লেগে গেলো। তখন মনের অবস্থা বিলকুল পাল্টে গিয়ে জেদ চেপে বসলো- বাবাজি, এরা আমার নিকটাত্মীয় জেনেও যখন আমার কাছে ওদের বুনিয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তুলছো, তাহলে আপনাকেও এই বুনিয়াদের নিকটাত্মীয় করে ছাড়বো!
    কথাবার্তার ছক পুরো পাল্টে গেলো। যে না-বোধক মানসিকতা নিয়ে গিয়েছিলাম, ফিরলাম ঠিক তার বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। অবশেষে আত্মীয়তা সুসম্পন্ন হলো। আজ ওরা এক সুখি দম্পতি। বেশ খোশহালেই রয়েছেন। ওদের সন্তানের বিবাহ প্রস্তাব কানে আসার পর মনে এলো ফের সেই সেদিনের পুরোনো কথা।
    বলছিলাম- মানুষ যা চায়, সবসময় তা হয়ে উঠেনা। তা ই হয়- আল্লাহপাক যা ইচ্ছে করেন- যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি ।

Comments

Popular posts from this blog

TO OUR SON (ON HIS GRADUATION).

সমকালীন ভাবনা ।

মিনতি।