ভাবনা সমকালীন
ভাবনা সমকালীন ।
জানি আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলায় আমার স্বপ্ন দেখা, বাংলায় ব্যক্ত করি আশা আকাঙ্খা, কামনা বাসনা, দুঃখ বেদনা- সবকিছু। কিন্তু মনের কথা, হৃদয়ের অনুভব প্রকাশ করতে গিয়ে, অনুভূতিকে যথার্থ ভাবে ব্যক্ত করতে গিয়ে যদি অন্য ভাষার শব্দ সম্ভার থেকে কিছু শব্দ ধার নিতে হয়, বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু শব্দ ভিন্ন ভাষার শব্দভাণ্ডার থেকে সংমিশ্রিত হয়ে পড়ে, তাতে তেমন দোষের কিছু নেই বলে মনে করি।
আরেকটি কথা- আজকের এই বৈশ্বিকরণের যুগে পুরো জগতটা যখন গ্লোবাল ভিলেজ হিসেবে পরিগণিত, তখন পারস্পরিক প্রভাব থেকে কেউ কাউকে উপেক্ষা করতে পারে না। সুতরাং মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে একান্তই কোনো গণ্ডির মধ্যে অবস্থান যেমন সম্ভব নয়, তেমনি কাঙ্ক্ষিত বা কাম্য নয় বলে আমার ধারণা।
এ তো হলো আমাদের সমকাল বা সমসাময়িক চেতনা। তারপর যখন উত্তর প্রজন্মের কথা আসে, তারা যে আরেক কদম প্রাগ্রসর হবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের যে একেবারে স্রোতের ধারায় ছেড়ে দিতে হবে, সেটাও কিন্তু আত্মহননের পথে এগিয়ে দেওয়ার নামান্তর। ভাষা সংস্কৃতির সমন্বয় সংমিশ্রণ কালে কালে, যুগের অন্তরালে ঘটতেই থাকবে। কিন্তু সংমিশ্রণটা হবে কিসের সাথে- যদি শেকড় বৃন্তচ্যুত হয়ে পড়ে?
তাই প্রাগ্রসরতা তখনই বলা যাবে, প্রজন্ম যখন মূলের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। আত্মপরিচয়ের আত্মশ্লাঘা কেবল জিইয়ে রাখাই নয়, বিকশিত করার দায়িত্বও কিন্তু সমকালীন অভিভাবকদের দায়বদ্ধতা। আজকের একাংশ বাঙালি কিন্তু সেই দায়বদ্ধতা পালনে যেভাবে উদাসীন হয়ে উঠছে, তাকে কিন্তু প্রাগ্রসরতা বলা যায়না। বরং তা এক আত্মঘাতি প্রবণতা। এই প্রবণতাকে রুখতে অভিভাবকদের কর্তব্য হলো নিজের স্বাভিমান সম্বন্ধে প্রথমে সচেতন হওয়া এবং ডালপালাকে মূলের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জুড়ে রাখা ।
গো-দুগ্ধের মধ্যে যে দুধেল স্বাদ অনুভূত হয়, প্যাকেট দুধ তার ধারেকাছেও যেতে পারে না। ঠিক তেমনি মা'কে মা বলার মধ্যে যে মাধুর্য আর পরিতৃপ্তি নিহিত, 'মম' আর 'মাম্মি' দিয়ে সেই পিপাসা মেটানো যায় না !
০৯-০১-২০২১
Comments
Post a Comment