ভাবনা সমকালীন
মনে নেই কার লেখা এবং কোথায় পড়েছিলাম একটি কবিতার দুটি লাইন-
"আপাতত নিম্নগামী হলেও তাকে তুমি বাধা দিওনা,
সমাজের অকল্যাণ হবে"!
কথাগুলোর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত অনুভব। আপাত দৃষ্টিতে যা পরিদৃশ্য, সবসময় তা ই সত্য নয়। ধরুন, নিদ্রামগ্ন কাউকে দেখেই বললেন- মানুষটি ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু সে যে নিছক ঘুমিয়েই আছে, তা নাও হতে পারে। হতে পারে মানুষটি পরবর্তী মহৎ কর্মের জন্য নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে।
আমাদের দেশে প্রচলিত এক পৌরাণিক কাব্যিক চরিত্র আছে, যার চর্বন হয়ে থাকে সাধারণত অলস মানুষের ক্ষেত্রে। কুম্ভকর্ণের নিদ্রা। হ্যাঁ, কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ছিল অদ্ভুত ধরনের। যখন ঘুমোতো, ঘুমিয়েই থাকতো- নাগাড়ে! সহস্র হস্তী তার উপর দিয়ে অতিক্রমণ না করা পর্যন্ত তার ঘুম ভাঙতো না! কিন্তু কুম্ভকর্ণ চরিত্রের যে দিকটি আলোচনায় আসেনা, তা হলো নিদ্রাভঙ্গের পর তার বৈপ্লবিক বীরত্বের কথা। লঙ্কাধিপতি রাবণের কাছে দেশের সেরা সেনাবাহিনীর তেজস্বিতা প্রয়োগের পরও যখন লঙ্কা বাঁচানো দায় হয়ে উঠেছিল, তখন রাবণ শেষ অবলম্বন হিসেবে অনুজ কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গ করিয়ে তার শরণ নিয়েছিলেন। নিদ্রাভঙ্গের পর কুম্ভকর্ণ একাই শ্রীরামের বানর সেনার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছিলেন! রুখে দিয়েছিলেন বানর সেনার অগ্রগতি। অর্থাৎ কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ছিল তার শক্তি সঞ্চয়ের অভাবিত মাধ্যম।
কথা হলো আমাদের সমাজে কিছু কিছু মানুষের আপাত নিষ্ক্রিয়তা আমাদের মধ্যে এক নঞর্থক প্রতিপাদ্যের জন্ম দেয়- গেছে, এই মানুষটির দ্বারা আর কিচ্ছু হবেনা! কিন্তু তার উপর দিয়ে কয়টি হস্তী অতিক্রমণ করিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি ? আপাতদৃষ্টিতে যাকে দেখছি নিদ্রামগ্ন, তার মধ্যেই হয়তো সুপ্ত রয়েছে এমন কিছু সম্ভাবনা, যা কাজে আসতে পারে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে।
তাই আবারও বলি-
"আপাতত নিম্নগামী হলেও তাকে তুমি বাধা দিওনা,
সমাজের অকল্যাণ হবে"!
১০-০১-২০২১
Comments
Post a Comment