গল্প নয়, আজ ঘটনা বলি। জনৈক অভিজ্ঞ ব্যক্তির অভিজ্ঞতা প্রসুত ঘটনা।
বেশ কবছর আগের কথা। তখন আমাদের দুজন সন্তানই কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়- হাফলঙের ছাত্র। সেই সুবাদে আমি পেরেন্টস-টিচার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি। সঙ্গতকারনে ঈদ উপলক্ষে বাচ্চাদের স্কুলের শিক্ষকদের- যারা ভিন্ন রাজ্য থেকে এসে আমাদের সন্তানদের পড়াচ্ছেন, তাদের দাওয়াত করা আবশ্যক মনে করেছিলাম। এসেছিলেন ও, প্রিন্সিপাল সহ প্রায় সকল স্টাফ। সঙ্গে স্থানীয় জেএনবির প্রিন্সিপাল ও।
গল্প হচ্ছিলো নানা প্রসঙ্গে। শিক্ষকদের নানা জায়গার নানা অভিজ্ঞতার কথা। কেভি প্রিন্সিপাল ডঃ এ,আর,জেনা। উড়িষ্যার মানুষ। তিনি শেয়ার করলেন তাঁর এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তাঁর নতুন পোস্টিং হয়েছে কেভি পোর্টব্লেয়ারে। সুদূর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। প্রথমদিন গেছেন একটি প্রাইমারি ক্লাসে। পরিচয় পর্ব সেরে জানতে চাইলেন ক্লাসে হিন্দু বাচ্চা কে কে আছে- হাত তুলতে। একটি হাতও উঠলো না! আশ্চর্য, একটিও হিন্দু ছাত্র নেই পুরো ক্লাসে! -ক্রিশ্চান ? একটিও না! মুসলিম! নেই! বুদ্ধিষ্ট ? একটিও না ! অত্যাশ্চর্য !
কিন্তু তখনো তিনি জানতেন না এর চাইতে বড় চমৎকার তাঁর জন্য রয়ে গিয়েছিলো ! যখন রহস্য ভেদ করতে এরপর জানতে চাইলেন- যদি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কিছুই নও, তাহলে কি তোমাদের ধর্মীয় পরিচয়? একটি লিকলিকে ছেলে দাঁড়ালো।
-স্যার, হাম হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিশ্চান কুছ নেহী, হাম সব বাচ্চে হ্যায়, ঔর হামারে পহচান- হাম সব হিন্দুস্তানি হ্যায়!
ডঃ জেনা স্পষ্টভাবে সেদিন বলেছিলেন- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করার পর আন্দামানের মতো এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে গিয়ে ক্লাস থ্রি'র এক বাচ্চার কাছে যে শিক্ষা পেয়েছিলাম, সেই পাঠ গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে পুরো দেশবাসীর!
ডঃ জেনা পরবর্তীতে গিয়েছিলেন কেভি শিলচর, তারপর নিজ রাজ্যে খুদরা রোড কেভি থেকে সম্প্রতি রিটায়ার করেছেন। তিনি আজ অনেক দূরে, কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধি আজও ভাস্বর হয়ে রয়েছে আমার চেতনায়। থাকবে হামেশা!
Comments
Post a Comment