সর্দারজি কে সাথ : ২
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°° 
     কাটিহার স্টেশন পৌঁছার পর সর্দারজি নামলেন প্লেটফর্মে। ফিরলেন হাতে একগাদা কচি চিচিঙ্গা নিয়ে। একটি হাতে দিয়ে খেতে বললেন। আমি তো তাজ্জব! কাঁচা তরকারি কেউ কেউ খায় শুনেছি। কিন্তু কচি চিচিঙ্গা কেউ আবার খায়? হাতে নিয়ে ইতস্তত করে দেখছি ওরা কিভাবে খায়। আরে, প্লেটফর্মে দেখি অনেকেই খাচ্ছে! দেদার বিক্রি হচ্ছে ডালায় করে! ব্যাপারটা কি? আড়চোখে চেয়ে দেখছি সর্দার- দম্পতি গিলছে তো? হ্যাঁ, সেভাবেই লক্ষ্য করে দেখি এ যে আমাদের শশার মতো করে খাচ্ছে! কামড় বসালাম এবার। হ্যাঁ, শশারই যেন মাসিত্ব ভাই। নামধাম যে জানিনা, কোনোদিন চোখেও যে দেখিনি- কিন্তু চিনি না বস্তুটি সে কি আর বলতে হয়? সর্দারজিকে জিজ্ঞেস করলাম আপনাদের ওখানে এটিকে কি বলে ? 
     -কাকড়ি, হর জাগাহ মেঁ য়হ কাকড়ি নাম সে হী জানা যাতা হ্যায়। 
     আমার হিন্দির জ্ঞান বাড়তে লাগলো। কাঁকড়া জানতাম- যার বাচক বিচার কখনও করার আবশ্যকতা বোধ করিনি। এবার অটোমেটিক পেয়ে গেলাম কাঁকড়ার ও একটি মহিলা বাচক বস্তু আছে! 
     ট্রেন চলছে। সর্দারজি স্ত্রীকে কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন- একটি শব্দ বুঝলাম কেবল- মনপ্রীত। মহিলা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন! পুরো খটর-বটর শুরু হয়ে গেলো দুজনের মধ্যে। সামনের সিটে বসা মহন্ত বাবুর দিকে ফিরে সর্দারজি অভিযোগের সুরে বললেন- দেখিয়েতো ভাইয়া, আমি দায়িত্বশীলতার কথা বলছি, আর ও রাগ করছে। উদগ্রীব হয়ে মহন্ত বাবু জানতে চাইলেন ব্যাপারটা কি? 
     সর্দারজি বললেন- মেরী শালী মনপ্রীত, বহুত চোস্ত মডার্ন লেডি, আমরা ঘরে গেলে আমাদের দেখতে আসে। জিজ্ঞেস করলাম উনাকে মনপ্রীতকে খবর দিয়েছে তো, ও কবে আসবে? তাতেই উনার যত রাগ! আরে, রিশতাদার হ্যায় আপনী, খোঁজখবর তো রাখনা পড়তা ! 
     মিসেস কৌর এবার সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। -মনপ্রীত মনপ্রীত, খালি মনপ্রীত কো হী ইয়াদ.... ওহ আয়ী, তো ইনকো বিমারী পাকড় লেতা! না বাজার নেবার অবকাশ, না ওষুধ পত্তর ! ঔর উহ ভী, পুরী ডক্টর বন যাতি হ্যায় ! 
     এবার গম্ভীর সুরে সর্দারজির সাফাই- সুনিয়ে ম্যাডামজি, হমারে পূর্বজৌনে এক বাত বোলকে গিয়া- ঘরে শালা এলে দুঃখ ঢেকে খুশি দেখাতে হয়, আর শালি এলে খুশি লুকিয়ে রাখতে হয়। আমি তো তা ই ফলো করে থাকি। যব কপিল আতা, আমরা যে খোশহাল রয়েছি, তা দেখাবার জন্য কি ওকে নিয়ে দিনভর ঘুরে বেড়াই না! ঔর মনপ্রীত এলেও খুশি লুকোবার জন্য বিমারীর মতো ঘরের কোণায় পড়ে থাকি- পূর্বজদের প্রতি সম্মান না জানিয়ে আমি কি নেমকহারাম হতে যাবো ? সবাই মিলে উপভোগ করা গেলো খুব! 
     মিসেস কৌরের নিবেদন- ভাইসাব,ইনকে বাতৌঁমে মত পড়িয়ে, ঘর মেঁ গিয়া তো সির্ফ ঘুরঘুর করতে রহতে হ্যায় ইধার উধার, বস যতদিন মনপ্রীত থাকে ততদিন ছাড়া! সাল মেঁ এক-আধবার গেছো যখন, মাঝেমাঝে কোনো মন্দির গুরুদুয়ারা যাবার কথা বললে সময় নেই, আর দোস্তদের নিয়ে চক্কর কাটতে সময়ের অভাব নেই! যত্তসব ! 
     -আচ্ছা ভাইসাব,আপ হী বোলিয়ে, মন্দিরে কি ছেলেদের যাবার কোনো মানে হয় যেখানে যতকিছু সব মেয়েদের? মহন্ত বাবু জানতে চাইলেন তা কি করে? 
     -আপ হী সোচিয়ে না,য়হাঁ মেঁ কৌন কৌন হোতা হ্যায়- আরতি, বন্দনা, পূজা, মালা- ......, ইন সবকে বিচ মেঁ আপ এক ঘন্টি যা কে খাড়া হোগা, তো কোই ভি আ কে ঢং ঢং শুরু কর দেগা! Personal safety also matters- হ্যায় না ? আর এমনিতেই  যদি ঘরমে ব্যাটকর ওয়াহি গুরুজীসে মোলাকাত হো জাতা, তো ক্যা জরুরত হ্যায় ইতনা ভক্তি দিখানে কা? 
     মিসেস কৌরের মেজাজ যেন পুরো তিরিক্ষি হয়ে উঠেছে। এবার সর্দারজিকে এক জোর ধাক্কা দিয়ে বললেন- হায়রে আমার গুরুজী, ভক্তির নামে দেখা নেই, আর ওয়াহিগুরু দেখা করতে আসেন ! 
     -সচ মেঁ মেম সাহেবা, কাল রাতেই এসেছিলেন ওয়াহিগুরু, আমি কিন্তু বলিনি, একদম বলিনি ! 
     -কি বলো নি, কি কি ? 
     তুমহারি সিতম কে বারে মেঁ ! 
     কোন এক স্টেশনে ট্রেন থেমেছে ফের। সর্দারজি নামলেন। দুই মিনিটের মধ্যে চলে এলেন- হাতে ইয়া মোটাসোটা কিছু একটা। পেপার দিয়ে মোড়ানো। বস্তুটি দেখেই মিসেস কৌর রেগেমেগে উঠলেন- ম্যায়নে বোলি থি না, জার্নি মেঁ ইয়েসব জঞ্জাল নেহি চলেগা ? ফির? 
     এবারও বিচারকের আসনে সেই মহন্ত বাবু। 
     -দেখিয়ে তো ভাইসাব, আপ হী বোলিয়ে- এক দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য পালন করতে গেলে, দেশের উপকার করতে গেলেও এই মহিলাদের ঘ্যাণর ঘ্যাণর শুনতে হয়, এটা কার ভালো লাগবে? 
     -দেশের উপকার, মতলব? 
     -ইয়েহ ভী আপ নেহি সমঝা? আচ্ছা বলুনতো, দেশের প্রগতী উন্নতি করতে হলে কি চাই ? টাকাকড়ি লাগবে না? সেই টাকাগুলো আসবে কোত্থেকে? আপ ঔর হাম আগর সরকারের খাতায় টেক্স দিয়ে যদি থোড়া থোড়া পয়সা জমা না করি, তাহলে দেশের প্রগতী হবে কি করে! ইসলিয়ে হাম পাঞ্জাবি লোগ, চাহে ড্রাইভার হো, ইয়া সরোকার, হামেশা টেক্স জমা করতে রহতে হ্যায়! হামে পতা হ্যায়, কিস সেক্টর সে গরমেন্ট কো জ্যাদা টেক্স উসুলা জাতা হ্যায়, উসী সেক্টর কো হাম প্রায়রিটি দেতে হ্যায়। আপনি স্টেটিসটিক্যাল ডাটা দেখুন, পাঞ্জাবিদের চাইতে অধিক দেশভক্ত এদেশে আর কারা আছে? 
     এসব যুক্তির সামনে মনে হচ্ছে এবার মিস্টার মহন্তেরও দেশপ্রেম ধীরে ধীরে উথলে উঠতে শুরু করেছে ! ঝন ঝন ! 
                          ২১-০৭-২০২০

Comments

Popular posts from this blog

TO OUR SON (ON HIS GRADUATION).

সমকালীন ভাবনা ।

মিনতি।