Posts

Showing posts from July, 2020

তিনটি দিন, একাত্মতায় বিলীন!

* তিনটি দিন, একাত্মতায় বিলীন *                     -আ,ফ,ম, ইকবাল॥  তিনটি দিন,  হ্যাঁ, এই তিনটি দিন     একাত্মতায় আমরা সবাই  হই বিলীন !  একটি দিন-  দস্তখত দিয়েছিলাম  প্রথম যেদিন  এই ধরণীর বুকে,  পরনে ছিল সবার  একই নৈসর্গিক পোশাক !  আরও একটি দিন-  শুয়েছিলাম বিছানায়  কোনোও এক হাসপাতালের,  আবশ্যক হয়েছিল  এক বোতল শোণিতের-  নিয়েছিলাম সবাই  লোহিত কণিকা মিশ্রিত  একই রঙের রুধির !  আর শেষের একটি দিন  সুমুখে আছে ওৎ পেতে-  শেষের অভিসারে  যাত্রা যখন হবে শেষবারে   গায়ে চড়াবো সবাই  একই রঙের  শ্বেত শুভ্র বসন,  কলুষ হীন  কত নির্মল সে আচ্ছাদন!  মাঝখানে শুধু  বিবাদ বিসম্বাদ  শুধু শুধু কেন এ অবসাদ ?                    ৩১-০৭-২০২০

উড়ান অদ্ভুত

*  উড়ান অদ্ভুত  *                  -আ,ফ,ম,  ইকবাল ॥ আমিগুলো পাখির মতো উড়ে বেড়ায়  বসে পড়ে কখনও আকাশের ডালে  গ্রীবায় চক্ষু ঘসে  মাঝেমাঝে উঁকি দেয় চঞ্চু তুলে  অবাক হয়ে ভাবে-  আমার ভেতরে কেমনে ঠাঁই পায়  এতোগুলো আমি !  সবদিন নয়,   কোনো কোনো দিন বসে পড়ে  স্বপ্নের জানালা আঁকড়ে ধরে  ডানা তুলে আবার  কখনও তাকিয়ে থাকে  অতিক্রম করে কারা যাচ্ছে চলে  অমোঘ অন্তরালে !  আচ্ছা,  কেউ যে বলে  ঠোঁটটা ছিল একদা  চিকচিকে কমলা রঙের !  বাদলের আরশিতে   চেয়ে দেখি আজ  আমার আমির পানে  সেগুলো হয়ে গেছে বাদামি  এরও বুঝি আছে কোনো ইতিহাস ?  সন্ধার আকাশটা হয়ে আসছে  অদ্ভুত হরিদ্রা বর্ণের !  অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি  উড়ছে আরও কত আমি  আমার মতো করে  তাগিদ নীড়ে ফেরার ?  আবার ডানা ঝাপটা-  ভুলে আসা টর্চলাইটের সন্ধানে !                   ২৮-০৭-২০২০

নিঝুম পৃথিবীর আলো

  *  নিঝুম পৃথিবীর আলো *            -আ,ফ,ম,  ইকবাল॥  তছনছ করে দিয়েছে  আমাদের চারপাশ-   একটি অনুজীব  নিঃস্তব্ধ শব্দের মত ঝঙ্কার  নিঝুম সকল মিলনায়তন  মিলনের জন্য তবু কত উশখুশ  হ‌দয়গুলো চায় হৃদয়ের সান্নিধ্য  চায়- সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মাঝেও  আত্মিক সম্মিলন ।  মিলনের তাগিদে তাই  অনলাইন আয়োজন  স্কাইপ জুম ওয়েব  আরও কতকিছু,  ক্ষুদ্র লতিকা যেমন ঝিমিয়ে পড়েনা  আঁকড়ে ধরে মহীরুহে  টিকিয়ে রাখতে নিজেকে  উপরে উঠতে চায় তরতরিয়ে  উপরে, আরও উপরে  তুলে ধরতে সংগ্রাম তার অব্যাহত  নিজের প্রজন্মকে-  আপন নান্দনিকতায় !  উদ্ধাররহিত স্বপ্নের উদ্ধারে  প্রয়াস আমাদের অব্যাহত  মননের হাত ধরে  নিঃসাড়তা ভাঙার বহুবিধ আয়োজন  হবে আমাদের আত্মদর্শন  আত্মার বিবর্তন ।  নিরলস প্রয়াসের মাঝখানেও  সংযোগ হয়ে যাচ্ছে বিচ্ছিন্ন  আসছে সঞ্চালকের আওয়াজ-  "শুনতে পাচ্ছেন তো আমাকে,  না, আমরা বোধহয় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড...

বাঙালি চৈতন্য

     *  বাঙালি চৈতন্য  *                -আ,ফ,ম,  ইকবাল ॥  ভীষন দূর্বল ভেবে  যারা মত্ত হয়ে উঠেছে   বাঙালির চেতনা চৈতন্য নিয়ে  খেলছে এদের নিয়ে পাশাখেলা  পেণ্ডামিক আর প্রলয়ঙ্করী বানের মাঝেও  মেতে উঠেছে পৈচাশিকতায়  সেটে দিচ্ছে বিদেশির নোটিশ  ল্যাম্পপোস্ট আর নৌকার গলৈয়ে  ওরা কি জানেনা  টলানো যায়না হিমালয়  দাঁড়িয়ে আছে যে  আপন প্রজ্ঞায় আর প্রতিজ্ঞায়!  সময়ের সমীকরণে   ভব্যতার ঘটেছে অদ্ভুত বিড়ম্বনা  বাঁদর পরেছে মাথায় ত্রাতার টুপি  বিষন্নতার ধুম্রকুণ্ড হতে  উত্থিত হচ্ছে যে বিষাদ কণিকা  ক্রমশ তা জমায়িত হচ্ছে  নীল আকাশের শেষ প্রান্তে  ইথারে ভেসে আসা শব্দহীন সম্বোধনে  রচিত হচ্ছে যে জটিলতার আবহ  আগ্নেয়গিরির উন্মুক্ততায়  একদিন ভষ্ম করে দেবে  মৃত বিবেকের সকল খোলস !  প্রজন্মের দমিত জিনে  জন্ম নেয় প্রগতির ফেরিওয়ালা  ঝিঁঝিঁ পোকার করতালিতে  দিকে দিকে জেগে উঠছে  গর্ত...
সর্দারজি কে সাথ : ২ °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°       কাটিহার স্টেশন পৌঁছার পর সর্দারজি নামলেন প্লেটফর্মে। ফিরলেন হাতে একগাদা কচি চিচিঙ্গা নিয়ে। একটি হাতে দিয়ে খেতে বললেন। আমি তো তাজ্জব! কাঁচা তরকারি কেউ কেউ খায় শুনেছি। কিন্তু কচি চিচিঙ্গা কেউ আবার খায়? হাতে নিয়ে ইতস্তত করে দেখছি ওরা কিভাবে খায়। আরে, প্লেটফর্মে দেখি অনেকেই খাচ্ছে! দেদার বিক্রি হচ্ছে ডালায় করে! ব্যাপারটা কি? আড়চোখে চেয়ে দেখছি সর্দার- দম্পতি গিলছে তো? হ্যাঁ, সেভাবেই লক্ষ্য করে দেখি এ যে আমাদের শশার মতো করে খাচ্ছে! কামড় বসালাম এবার। হ্যাঁ, শশারই যেন মাসিত্ব ভাই। নামধাম যে জানিনা, কোনোদিন চোখেও যে দেখিনি- কিন্তু চিনি না বস্তুটি সে কি আর বলতে হয়? সর্দারজিকে জিজ্ঞেস করলাম আপনাদের ওখানে এটিকে কি বলে ?       -কাকড়ি, হর জাগাহ মেঁ য়হ কাকড়ি নাম সে হী জানা যাতা হ্যায়।       আমার হিন্দির জ্ঞান বাড়তে লাগলো। কাঁকড়া জানতাম- যার বাচক বিচার কখনও করার আবশ্যকতা বোধ করিনি। এবার অটোমেটিক পেয়ে গেলাম কাঁকড়ার ও একটি মহিলা বাচক বস্তু আছে!       ট্রেন চলছ...

অবিস্মৃত স্মৃতি ।

* ২১২০- অবিস্মৃত ইতিহাসের একটি পাতা *   •••••••••••             -আ,ফ,ম,  ইকবাল ॥       আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে  এসেছিল ধরণীর বুকে  এক অজানা ভাইরাস  কেউ তার নাম দিয়েছিল 'করোনা' !  বিশ্ব জগতকে সে করে রেখেছিল স্থবির  বন্দি ছিল নাগরিক ঘরের ভেতরে  দেশে দেশে, সারা ভূ-গোলকে !  বন্ধ হয়ে পড়েছিল   কলকারখানা যত দেশ- দেশান্তরে  বন্ধ শ্রমিকের কাজকর্ম  বন্ধ তাদের রুজি রোজগার  বন্ধ যত যানবাহন  বাতাসে ছিলনা  জ্বালানির কোনো ধোঁয়া আর ।   পথে পথে ছিল   শ্রান্ত কর্মহীন মানুষের মিছিল  কেউ করেছে তাদের লাঠিপেটা খুব  কেউ দিয়েছিল বাড়িয়ে  মানবিক হস্ত  যোগাড় করে খাদ্য পানীয়  নিজেদের মতো করে ! একদিকে মৃত্যুর মিছিল  হাসপাতালে মরদেহের স্তুপ  শ্মশান কব্রিস্থানে ছিলনা ঠাঁই আর  খবর নেবার ছিলনা কেউ  কোন লাশটি কার !  বন্ধ ছিল বাজার হাঁট  বন্ধ ছিল বানিজ্য ব্যবসায়  বন্ধ অর্থনীতির যত কার্যক্রম  বন...
সর্দারজি কে সাথ  °°°°°°°°°°°°°°°°°        একবার এক পাঞ্জাবি ফ্যামিলির সাথে আমার সফর হয়েছিল। সে প্রায় প্রাচীনকালে। অর্থাৎ আমি যখন উনিশ কুড়ির-ছোকরা। জানিনা তখন পর্যন্ত চেহারায় 'ইছারাঙা' ভাবখানা রয়ে গিয়েছিল কি না। তবে সেটা ছিল আমার প্রথম 'বিদেশ' যাত্রা। ওহ, ভাবছেন হয়তো এতো কম বয়সেও বুঝি প্রাচীন কালের আশেপাশের মানুষ পাসপোর্ট তৈরি করা ফেলতো? না না, সেরকম কিছু নয়। আসলে তখন পর্যন্ত আসামের বাইরের জগতটা ছিল আমার কাছে বিদেশ ই। এবং সেই অর্থে সেটি ছিল কোনো 'বিদেশি'র সঙ্গে আমার প্রথম সহযাত্রা।        ট্রেনে উঠে নিজের সিটখানা খুঁজে পেলাম যখন, তখন তা টোটেলি এনক্রোজড। ইয়া মোটা পাগড়ি ওয়ালা সর্দারজি সপত্নিক সমাসীন আমার জন্য নির্ধারিত আসনে। এক গাদা লটবহর এদিক ওদিক ছড়িয়ে। টিকিট হাতে নিয়ে সিটের দিকে ইশারা করতেই সর্দারজি বলে উঠলেন- ও ইয়াং ম্যান, আইয়ে আইয়ে, বৈঠ যাইয়ে ইধার। বসার জায়গা দেখিয়ে দিলেন। নাম জিজ্ঞেস করলেন। তারপরের প্রশ্ন- হিন্দি আতা হ্যায়? একপ্রকার থতমত খেয়ে মনে মনে ভাবলাম-বলছেন কি উনি, হিন্দি আবার জানবো না! ক্লাস সেভেন পর্যন্ত হিন্...

নবজাগরণের পাঠশালা ।

*  নবজাগরণের পাঠশালা  *               -আ,ফ,ম,  ইকবাল॥  নিজেরই অজান্তে  সঞ্চয় করে রেখেছিলাম একদা   এক ফালি রোদ্দুর  এক মুঠো জ্যোৎস্না  আর এক বুক ভালোবাসা । কে জানতো   ফুরিয়ে যাবে তা এতো শীঘগির  এক অদৃশ্য প্রকৃতির অভিশাপে !    পেণ্ডুলামের দোলায় দুলছে যে জীবন  কে জানে তার আয়ু আর কতক্ষন  শেষ হয়ে আসছে সকল আয়োজন  বিন্যাসের সুক্ষ্ম তারে  জড়িয়ে ছিল যে রসটুকু  তা ও নিচ্ছে চুষে চুষে  সময়ের বিভৎস তাণ্ডব !  জানিনা কখন বৈশাখ এসেছিল  কোন ফোঁকর দিয়ে চলে গেছে  জৈষ্ঠ্য আষাঢ়, কোন নিমগ্নতায়  শ্রাবণও দিয়েছে হস্তাক্ষর,  গহীন কালো চোখে  তিনশো পাওয়ারের চশমা দিয়েও  চারপাশ দেখছি শুধু কালো  বিস্ময় ভরা হিয়ায়  তাকিয়ে রয়েছি  খোলা আকাশের দিকে-  কোথায় হারিয়ে গেলো রাজহংসগুলো !  এরপর একদা ফের  হয়তো আবার ভাস্বর হবে  শুভ্রতার প্লাস্টার দিগন্ত ব্যাপি  ফুটবে আলোক দিকে দিকে  ফিরে আসবে ...

লক্ষ্ণৌ কি নাজাকত ।

লক্ষ্ণৌ কি নাজাকত।  °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°                         -আ,ফ,ম,  ইকবাল॥                              সে অনেক বছর আগের কথা। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে এক ভদ্রলোক উঠেছেন আমাদের কামরায়। গায়ের পাঞ্জাবি, মোটা পায়ের ট্রাউজার আর কাপড়ের লম্বা ফিতার লটকানো ব্যাগ দেখেই মনে হলো নিশ্চয় কোনো কমরেড হবেন। জায়গা দিতে হলোনা, করে নিলেন। কমরেডরা বলতে খুব পারঙ্গম একথা সবারই জানা। ট্রেন ছাড়তে না ছাড়তেই ভদ্রলোক গল্প জুড়ে দিলেন। কত যে কর্মব্যস্ততা উনার, আজ যাচ্ছেন পাটনা। কাল ভোরেই পৌঁছতে হবে গয়া। বিরাট রেলী আছে কাল সেখানে- ইত্যাদি।       এরমধ্যে ক্রমে তুলে আনলেন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রসঙ্গ। এক ছেলে পড়াশোনা করছে জার্মানির বন-এ। মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে চিনের কোন এক সর্ববিখ্যাত মেডিক্যাল কলেজে। ছোট ছেলেটার আবার পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ নেই। কলেজে ভর্তি হয়েই পার্টি আর রাজনীতি নিয়ে মশগুল। অবশ্য তার এক গুণ- কোনো অন্যায় সহ্য করতে পারেন...

সংস্কার।

সংস্কার  •••••••••        সংস্কার আর ধর্মীয় আচার সম্ভবত সব সময় এক নয়। কিন্তু ভারতীয় পরম্পরায় সংস্কার বলতে যে আচার আচরণ বুঝায়, তা কিন্তু মোটামুটি ধর্মীয় বিধিবিধানের আধারে গড়ে উঠেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব আচার বা প্রথায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। কেউ অনেক এগিয়ে যেতে গিয়ে সেগুলোকে একপ্রকার উপেক্ষা করে চলেছেন। আবার এর বিপরীতে অনেক এগিয়ে গিয়েও কেউ কেউ পরম্পরাকে ধরে রেখেছেন। এই যে এগিয়ে গিয়েও পুরোনো বলি অথবা পৌরাণিক পরম্পরাকে ধরে রাখার মতো মানুষ আজকাল যদিও সংখ্যালঘু, তবুও কখনো তার জলজ্যান্ত উদাহরণ আমাদের সামনে এসে পড়ে।         সে রকম একটি ঘটনা বলি আজ। হ্যাঁ, অবশ্যই ভ্রমণ কাহিনী। পূর্বোত্তর সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসে গুয়াহাটি আসছিলাম। এলাহাবাদ পৌঁছেছে সকাল নয়টার দিকে। একটি কথা সবাই জানি যে লংরুট ট্রেনগুলোতে স্লিপার ক্লাসে দিনের বেলা আর রিজার্ভ কম্পার্টমেন্ট হয়ে থাকে না প্রায়ই। উঠে পড়েন অনেক যাত্রী। 'থোড়া বৈঠ স্যাকতা' বলে পুরোপুরিই বয়ঠ যাতা। এলাহাবাদে উঠে পড়লেন অনেক যাত্রী। আমাদের খোপে এক ইয়াং ...

INDEBTEDNESS Poem

*  INDEBTEDNESS  *                        - AFM EKBAL.  Boating in the deep sea  Closer to the sundown  Submerged all around  Far from the native town !  Looking sharp- in a hurry  Forgot to fetch the purse  Kith and kin reminded not  How to dare there the curse !  Voyage started far ago  In gross carelessness  Belongings not belonged  How to fill the indebtedness !                            12-07-2020

পথহারা কবিতা

*  পথহারা কবিতা  *             -আ,ফ,ম,  ইকবাল॥              শহরে চলছে কার্ফু আর লকডাউন  আকাশ পড়ছে গলে গলে  এরই মধ্যে পুড়ে পুড়ে খাক হচ্ছে কবিতা  অনেক অনেক কবিতা , যত্রতত্র  যেন স্থুপিকৃত উচ্ছিষ্ট খাবার  সভ্যতা দিয়ে আর হয়না তার মূল্যায়ন ।  পাহাড়ের পাশে দিয়ে  বয়ে চলেছে দিয়ুং নদী, বড় একা  হেন কোন ব্যাথাতুরা রমণী  অগোছালো জীবন ধারায়  বাদল নেমে আসছে তাই  দুয়ের খবর নিতে-  নদী আর রমণীর ।  জীবনের যত অভিমান  জীবনের বেদনা নিয়ে  নেই আর কোনোও অভিযোগ  পেঁপের জীবনে কিসের জেদ  কে জানে কখন পড়বে টান-  সব্জির হাঁড়িতে অথবা ফলের প্লেটে  আবশ্যক যখন যেখানে !  জানিনা এরপরও আর  লেখা হবে কি না কোনও কবিতা  কবিরা যখন কবিতাকে ভোগ্য করে তোলে  কবিতা যায় তার বেদনা ভুলে ! যারা আছেন বেঁচে-  সেই রবি-মধু- জীবনানন্দ  নজরুল কিংবা সুকান্ত  তাঁরাই দেখাবে পথ  ঝলসানো রোশনাই দিয়ে !    ...

অভিজ্ঞানের পাঠশালা

*  অভিজ্ঞানের পাঠশালা  *           -আ,ফ,ম,  ইকবাল ॥ অভিনব পারিপার্শ্বিকতায়  বিপন্ন বিচরণ ভূমি !  সাত্বিকতায় ধরছে ফাটল ক্রমশ ?  নাকি চেতনার ভূবনে হচ্ছে  নবীন অনুভবের অভ্যুদয় ?  মিডিয়ার ফোর-জি স্পিড  ভাঙাগড়ার অভাবনীয় হাতিয়ার  ভাঙছে যদি এক পার-  গড়ে তুলছে তিন ধার  মননের বিপুল উত্থানে  ঘটছে অবচেতনার বিপর্যয়  গড়ে উঠছে মানবিক সমন্বয় !  কে জানতো  পথ শ্রমিকেরা হবে অতবড় শিক্ষক  কে জানতো  দেশের যৌবনে আছে এতো জোয়ার  কে জানতো  চেতনার চিত্তে রয়েছে এতো দুয়ার  কে জানে  রয়েছে খোলা আরও কত   প্রত্যয়ের প্রাত্যহিক পাঠশালা !  কে জানে অভিনব জীবনে  রয়েছে কত আরোও  অভিসম্পাত, অথবা অভিজ্ঞানের পাঠ বাকি  পথপানে তাই শুধু  অভিমানী চেয়ে থাকি !               ১০-০৭-২০২০
*  চাহনি অপলক শুধু  *       -আ,ফ,ম,  ইকবাল ॥  কাজহীন সকালে নিষ্পলক চেয়ে আছি  তৃপ্তিহীন আলস্য মাখা সেই তাকিয়ে থাকা  ঝিরঝির ধারাবর্ষণে ঘাসের বুকে  জমা হচ্ছে কালের অশ্রুকণা  চেতনার ভূমি  কেমন যেন হারিয়ে ফেলছে সকল উর্বরতা !  ধরণী আজ কোলাহলহীন, নিঝুম নিস্তব্ধ  অনাকাঙ্ক্ষিত বিপরীত মেরুতে অবস্থান  চোখ জোড়া নিদ্রাতুর- অসময়ে  তবু চেয়ে আছি অপলক নয়নে  বড্ড তৃপ্তি হীন সে চাহনি !  জানিনা আরও কতদিন  এমনি করে লিখতে হবে বিষয়হীন কবিতা ?  নিরাপত্তা হীনতায় স্থবির পারিপার্শ্বিকতা  না-দেখা শত্রুর আলিঙ্গনে  হারিয়ে যাচ্ছে কত আপনজন  চেনা-অচেনা মানুষজন  শুন্য হচ্ছে ক্রমশ চিরপরিচিত ভূবন !  পথ চেয়ে আছি শুধু নির্বিকার  কে জানে কখন  পরের ঢেউয়ের ঝাপটায়  কখন কারে তুলে নেয় !  নাকি দেখতে পাবো  আরেক জাহান  ঝড়ের তান্ডব শেষে  নবীন অঙ্গনে  নতুন পরিসরে ?             ১০-০৭-২০২০