Posts

Showing posts from May, 2020
*  দুই শুন্য আর দুই শুন্যের ঈদ (২০২০)  *             -আ,ফ,ম,  ইকবাল॥             বলো দেখি গেলো কেমন দুই শুন্য আর দুই শুন্যের ঈদ,  সোসিয়াল প্লেটফর্ম না থাকলে মিলতো সাড়া স্বজন সুহৃদ !  জন শুন্য যান শুন্য মিত্র শুন্য সকল পথঘাট,  মুসল্লি শুন্য মসজিদ গুলো মানব শুন্য ঈদের মাঠ !  নেই কোনও আজ গলাগলি নেইকো ঈদের সম্ভাষণ,  ঈদের মাঠে নেইকো কোনো নেতামন্ত্রীর হেভী ভাষন !  মেলায়নি কেউ হাতে হাত নেই সে মায়ার ললাট চুম্বন,   কচিকাঁচার নেই জোয়ার নেইকো তাদের করমর্দন !  নেই আজ সে চিরাচরিত প্রার্থী ভিখিরির দীর্ঘ সারি,  'ফিতরা দাও যাকাত দাও সদকা দাও বাবা দয়া করি' !  জুসের কাউন্টার শুন্য পুরো রঙিন পানীয়র নেই ফোয়ারা,  মিষ্টি দোকান লাগাম টানা কোথায় সে পারম্পরিক গ্রাহক ধারা?  ঘরে ঘরে ঈদের তরে  তৈরি কত ঈদের সামান,  নেইকো আজ কারো ঘরে অভ্যাগত অথিতি মেহমান !  নতুন রূপে এলো এবার কেমন রে ভাই ঈদ ঘরে,  এমন ঈদ হোক না নসীব কোনো কালে আর কারো তরে !...
আশঙ্কা, হ্যাঁ অনেক গুলো আশঙ্কা আজ আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে! একের পর এক দূর্বিষহ দুর্বিপাক ধীরে ধীরে ঘিরে ধরছে মানবস্বত্বাকে ! প্রকৃতিকে প্রথমেই আমরা বিরূপ করে রেখেছি, তায় আবার তাঁর প্রতি প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি আমাদের অবিবেচক আচরণ দিয়ে, সত্যিই শঙ্কা হয় কি জানি আর কতো রুষ্টতা প্রতীক্ষা করছে আমাদের জন্য !  তবে আমার মনের কোণে ভরসা জাগায় আমাদের উঠতি নবপ্রজন্মের পজিটিভ আচার আচরণ । তারা আজ অনেক জাগ্রত, অনেক সচেতন! দুঃস্থ অসহায়দের পাশে তারা দাঁড়াচ্ছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং আপনার আমার সবার প্রিয় কবি নজরুলের 'সাম্যবাদী' চিন্তাধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
বিশ্বে ৮.৭ মিলিয়ন নানা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র একটি প্রজাতি এক অনুজীবের শঙ্কায় আক্রান্ত! বাদবাকি সকল প্রজাতির মধ্যে চলছে উৎসব জোয়ার- কেবল মানব নামক প্রজাতিটি আজ গৃহবন্দি বলেই !
এ কি হচ্ছে আমাদের চারপাশে :  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~       প্রকৃতির রোষ থামার নামই নিচ্ছে না!  করোনা, আম্ফান,ভূ-কম্পন, ধারাবর্ষণ, বন্যা- জগতবাসী পরিশ্রান্ত! করোনা আজ কোনোও রাজ্য বা দেশের সংকট নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ হয়ে উঠেছে। এরইমধ্যে বিগত বুধবার রাতের খানিকের সাইক্লোন আম্ফান ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় এলাকায় তৈরি করে গেল এক বিভৎস পরিস্থিতির। কেবল পশ্চিমবঙ্গেই প্রাণ গেছে সরকারি হিসেব অনুযায়ী ৭২ জন মানুষের। আঘাতপ্রাপ্ত বিকলাঙ্গ বহু সংখ্যক মানুষ হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসাধীন। হাজার হাজার গাছ বৃক্ষ ধরাশায়ী। এর মধ্যে রয়েছে শতবর্ষের স্মৃতি ধারণ করা কত বট অশ্বত্থ গাছ। কে হিসেব দেবে সেই গাছগুলোতে ছিল কত লক্ষ কোটি পাখি আর কীটপতঙ্গের নিবাস! সরকারি হিসেবে ৭২ হাজার, বেসরকারি সংস্থা গুলোর মতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙেচুরে চুরমার! কয়েক লাখ মানুষ হঠাৎ করে চলে এলো সরাসরি আকাশের তলায়! লক্ষ লক্ষ বিঘা এক ফসলী জমির বুরোধান পানির তলায়। যার অর্থ এইসব চাষিদের সারা বছরের মেহনত তথা উপার্জনের মাধ্যম নিঃশেষিত !         একদি...
                * মনে রবে কি না রবে আমারে *        অনুসন্ধান করছি সেই ছেলেটির, যে বেড়ে উঠেছিল এক অজ পাড়াগাঁয়ে। এক অতি সাধারণ পরিবারের প্রতিনিয়ত প্রত্যাহ্বানের মধ্য দিয়ে। নিতান্ত শিশুকাল থেকেই যে ছিল নানা ধরনের রোগব্যাধির শিকার। দুর্বলতা অক্ষমতার জন্য পাড়ার ছেলেরা খেলাধুলায়  যাকে তাদের টিমে নিতে চাইতো না! বড়বন্দের জাঙ্গালে বসে বসে সে চেয়ে দেখতে থাকতো সমবয়সীদের খেলা। কখনও মুখ তুলে তাকিয়ে থাকতো বিশাল নীল আকাশের দিকে। আকাশ কিন্তু কখনো তাকে টিম থেকে বার করে দেয় নি! তাই আকাশে উড়তে থাকা পাখিগুলোর সঙ্গে গড়ে উঠেছিলো তার এক নিবিড় সখ্যতা। পাখিগুলোকে সে যেমন জানতো, পাখিরাও তাকে যেন চিনতো !          কর্দমাক্ত পথ দিয়ে গ্রামের পাঠশালায় যাবার পথে সঙ্গীদের সাথে পতপত করে চলার ক্ষমতাটুকুও তার ছিলনা। কতদিন পথ পিছলে পড়ে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল! পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর আগেই পাণ্ডুরোগ আঁকড়ে ধরেছিল সেই দুর্বল ক্ষুদ্র দেহটাকে। পাঁচ কিলোমিটার দূরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে ...
অজানা কোন বেড়ি পরে আজ বদ্ধ সবাই ঘরে ঘরে,  কে জানতো এক মাইক্রো    অনুজীব সবল হবে এমনি করে !
যুদ্ধও একদা শেষ হয়,মহামারীও থেমে যায় অবশেষে! কিছু মানুষ হয়ে উঠে নিঃস্ব,কিছু লাশ বেওয়ারিশ, রয়ে যায় কিছু আঘাতের চিহ্ন! হারিয়ে যায় চিরতরে কিছু দৃশ্য!

* সংসার সমরাঙ্গনে * সংসারি পুরুষদের দুইবিধ দায়বদ্ধতা থাকে। একটি বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, অপরটি ঘরের, গৃহপরিচালনার। প্রথমটিতে প্রায় সবাই কমিটেড, পুরোপুরি দায়িত্বশীল। সময় সম্মন্ধে যেমন সচেতন, তেমনি কর্মস্থলের দায়বদ্ধতা পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের বোঝাপড়া বা এডজাস্টম্যান্ট করে নিতে সবাই অভ্যস্ত। কিন্তু সেই 'ভদ্রলোক'দের একাংশ ঘরে এলেই ছোঁয়াছুঁয়ি রোগ পেয়ে বসে! এটি হলোনা, ওটি হচ্ছেনা কেন ? ঘরদোর এতো ময়লা কেন আজ ? খাবার তৈরি হতে এতো বিলম্ব কেন? বাচ্চাদের কাপড়চোপড় পাল্টানো হলোনা কেন? এমনতর নানান অভিযোগ ! এ্যডজাস্টম্যান্ট বস্তুটি যেন বাইরের জিনিস, তাই বাইরেই রেখে আসেন! অথচ সুখী কর্মজীবনে এডজাস্টম্যান্ট যতটা আবশ্যক, তার চাইতে অধিক আবশ্যকতা রয়েছে সুখী সংসার গড়ে তোলার জন্য। কর্মজীবনের রয়েছে নির্দিষ্ট সার্ভিস কোড। কিংবা ব্যাবসা-পাতিতে নির্দিষ্ট নীতিবিধান। কিন্তু গার্হস্থ্য জীবনের জন্য সকল নীতিমালা নিজেদের গড়তে হয়, নিজেরাই ভাঙতে হয়। যখন যেভাবে যেমন আবশ্যকতা, তেমনি তার পরিবর্তন পরিবর্ধনের মাধ্যমেই সংসার গড়ে উঠে সুখের কানন স্বরূপ। ঘড়ির কাঁটা ধরে নির্ধারিত সময়ের ডিউটি সেরে আপনি ফিরলেন সেই সংসারে, যে সংসারে আপনার সহধর্মিনী রুটিন মেনে সংসারের ঘানি টেনেই চলেছেন! আজকাল আবার অনেক গিন্নি নিজেও সার্ভিস করেন, তিনিও আপন ডিউটি সেরে ঘরে ফিরেছেন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নাশতা সেরে যে পরিচ্ছন্ন বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে আপনি সুখের গান গাইলেন- তুঝে সু্রজ কহুঁ য়া চান্দা, তুঝে দ্বীপ কহুঁ য়া তারা, মেরা নাম করেগা রওশন......., লক্ষ্য করেছিলেন সেই সন্তানটি নিয়ে তার মা রাতভর কি যাতনাই সয়ে উঠেছেন? কতবার উঠতে হয়েছে তার 'মুতের তেনা' বদলাবার জন্য? রাতভর দুধ খাওয়াতে গিয়ে মর্জি মতো পাশ ফিরতেও পারেননি! এরপরও কতটা সময় লেগেছে সকালবেলা তাকে হাগু করিয়ে ড্রেস পাল্টে পরিচ্ছন্ন করতে! ঘরে যাকে রেখে গেলেন, তার কোনো নির্ধারিত সার্ভিস রুল বা কোড বলেতো আর কিছু নেই, তাই আপনি ভাবতেই পারেন- ঘরে আর কি কাজ? এই যে সকালবেলা নাস্তার সঙ্গে মুরগির ডিমটা খাচ্ছেন, অথবা বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছেন, জানেন সেই মুরগির পেছনে একজন গৃহিণিকে কতটা সময় দিতে হয় ? কিচেন গার্ডেনের তরতাজা সব্জির বিকল্প নেই- ফুটানি করে বাইরের বন্ধুদের বলতে আমরা গর্ব করি। কিন্তু সেই কিচেন গার্ডেনের জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো শ্রমিক আপনি নিযুক্তি দিয়ে রেখেছেন? না, তার আবশ্যকতা বোধ করেননি, কেননা আপনার গর্ব আপনার গিন্নি এসবে খুব উস্তাদ! উনি যদি কর্মী বা চাকরিজীবী হোন, তাহলে খুব ভালো করে স্মরণ করুন, আপনি কি কখনো স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগটি গুছিয়ে দিয়েছেন? অথচ আপনার পার্সটি, আপনার রুমাল, আপনার কাগজপত্র- এমনকি আপনার পরিধেয় বস্ত্র কোনটি কোথায়, সেসব দেখে দিতে হয় ওই ২৪×৭×২৬৫ কর্মিকে ই ! ভাবুন তো- এসব কি অপবাদ দিচ্ছি শুধু শুধু, না কি এ এক প্রতিনিয়ত বাস্তব! আল্লাহপাক সংসারিদের সম্মন্ধে বলেছেন যে তিনি সৃষ্টি জগতকে 'যুগল' করে সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে একে অন্যের মধ্যে স্বস্তি খুঁজে পায়। এবং সেই যুগলের মধ্যে আবার সৃষ্টি করেছেন 'প্রেম' এবং 'করুণা'- যার মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে তৈরি হয় এক অনন্য মেলবন্ধন । এই যে প্রেম এবং করুণার মেলবন্ধন, তার বাস্তবায়ন আমরা খুবই পরিচ্ছন্ন দেখতে পাই অন্যান্য প্রাণীর জীবন ধারায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তার অভাব পরিলক্ষিত হয় সেরা সৃষ্টি মনুষ্য জীবনে! প্রাথমিক সংসারি জীবনের অন্যতম আকর্ষণ যদি প্রেম হয়, পরিণত জীবনে একে অপরের জন্য আল্লাহ তা'আলার নির্বাচিত করুণা স্বরূপ। যৌবন কালে সারা জগত ঘুরে যে প্রেম খুঁজে বেড়ায় বাউণ্ডুলে মানুষটি, যৌথ জীবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে এসে যায় অটোমেটিক নিয়ন্ত্রণ! পরস্পরের সান্নিধ্য আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এগিয়ে চলে সংসারের উত্তরণ। এই যে সংসার জীবনের যৌথ যাত্রা, সেখানে সব দায়বদ্ধতাকে ভাগ করে নিতে হয় যৌথভাবে। তবেই সংসার গড়ে উঠে সুখের, সমৃদ্ধির এবং কল্যাণকর এক কানন । আর হ্যাঁ, ওই যে 'করুণা', তা কিন্তু কেবল বুড়োবুড়ির একান্ত স্বত্ব বলে ভাবা উচিত নয়। একথা ঠিক যে একটা সময় হয়, ছেলে মেয়ে বাইরে চলে যায়। অথবা তাদের নিজেদের দায়বদ্ধতায় মশগুল হয়ে যায়। তখন বুড়োর বুড়ি ছাড়া উপায় নেই ! কথায় কথায় 'কই গো', 'কোথায় গো' লেগেই থাকে! কিন্তু আল্লাহপাক যেহেতু প্রেম এর সাথে সাথেই করুণার উল্লেখ করেছেন, তাই সারা জীবন ধরে আমাদের সেই উপলব্ধি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে যে- যেখানে প্রেমের দেওয়া নেওয়া, সেখানেই বইতে হবে করুণার হাওয়া ! আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সুখী সমৃদ্ধ এবং তাঁর নির্দেশিত এবং তাঁর বার্তাবাহকের প্রদর্শিত পন্থায় সংসার জীবন নির্বাহ করার তাওফিক দান করুন !

কে বলেছে তুমি নিঃস্ব- ছড়িয়ে দাও অঢেল প্রেম বিজিত হবে বিশ্ব !

যে ঘরে বসে ভাবছো নিজেরে বন্দি বিরক্তিকর একগুঁয়ে, পৌঁছতে সেই ঘর লয়ে দেখো খবর অগুন্তি জনতা চলতে চলতে পথেই পড়ছে শুয়ে !

লিখে যাও হৃদয়ের কোনে ঘোরাফেরা যত কথা করে ইকবাল, কে জানে ঝাঞ্ঝা তুফান শেষে হবে কাল কোন হাল !