দিশা ......
দিশা .......
আ,ফ,ম, ইকবাল॥
অনেক কাছে থেকে দেখেছি
কিছু মৃত্যুকে স্পর্শ করে
একান্ত আপনজনের ও
দেখেছি জীবন প্রদীপ নির্নিমেষ মিলিয়ে যেতে !
দেখছি পরপার যাত্রীর চোখে লিখিত অম্লান বাণীঃ
নিঃসঙ্গ পথযাত্রী আমি
হয়তো ছিলাম এক তারকার ক্ষীণ রশ্মি মাত্র!
মেঘের ছায়া বৃত্তে বলিষ্ঠ কায়ার দম্ভে বলীয়ান
ছিলাম মায়াজালে জড়িয়ে বিভোর আত্মমগ্ন !
আজ, বিরামহীন আকুলতা দূরে সরিয়ে
নিস্তব্ধতায় সাঁতার কেটে চলেছি
ডুবে যাচ্ছি বারবার ঐকান্তিকতার অতলে
নিষ্ঠুর স্বপ্নগুলো ভুলিয়ে রেখেছিল যুগ যুগান্ত ধরে
তরতরিয়ে ছুটে চলেছে তারা এক এক করে
হিসাব মেলাতে না পারা অনন্ত পথের পথিক আমি আজ !
অথচ এইতো সেদিন-
মেঘেরা আনন্দে করছিল কিলবিল
গুনগুনিয়ে করছিল গান পরস্পরকে জড়িয়ে;
দূরের আকাশে ভেসে উঠেছিল রংধনু
উড়ন্ত পাখিরা
উল্লাসে নৃত্য করছিল আকাশের বুকে
মাতোয়ারা হয়ে আঁকছিল ভালোবাসার মানচিত্র
আমারই পরিসরে
আমার চারিধারে !
বারান্দার লাগোয়া কাননে
ফুলের পাপড়িরা ফিসফাস করে
বলছিল কত কথা
কানে কানে,
জোনাকির গুঞ্জনে আলোকিত
হয়ে উঠতো নিস্তব্ধ কালো আঁধারের রাতগুলো
ঘুমন্ত স্বপ্নরা আকাশ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে
বলাবলি করতো-
তোমার জীবন হয়ে থাক চির রঙিন
কলুষ বিহীন অনন্তকাল ধরে !
জানিনা কখন কোন মোহনায়
স্বয়ংক্রিয় ভাবে আমার সামনে এসে দাঁড়াবে
সেই চিরন্তন সত্যটা
আন্তরিকভাবে ভালোবেসে
নিয়ে যেতে চাইবে
চিরসঙ্গী করে
আত্মার বিচরণে
ভালোবাসা আর আহ্লাদের ঘোরে হবে আমার আরোহণ।
হয়তো আমিও সেদিন
জগত কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলবো-
শেষ হয়েছে আমার সকল স্বপ্নের সন্ধান
পারবেনা কেউ আমায় আর শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে
এই মায়াবী নশ্বর কাঠগড়ায়,
যেখানে আমার স্বর্ণিল পথে হবে যাত্রারম্ভ
মেঠো রাস্তার এইখানে অন্ত মোর
এটাই আমার অন্তিম ভোর !
১১-১১-২০২২।
Comments
Post a Comment